গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মেয়ের জামাইয়ের লাঠির আঘাতে হাফিজ উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার দারোগারচালা এলাকায় মনির হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত জামাই ফিরোজ মিয়া (৩০) ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক একটি ঝগড়ার সমাধান করতে গিয়ে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন হাফিজ উদ্দিনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে কী নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল এবং ঠিক কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বুধবার দুপুরে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক মনির হোসেনের স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটির বিষয়ে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে হামলার সময় ঘটনাস্থলে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত হাফিজ উদ্দিন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাঁও উত্তরপাড়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে শ্রীপুর মাওনা ইউনিয়নের সলিং মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তার মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি এলাকার বাসিন্দা। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীরচালা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে ফিরোজ মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে এবং তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার ধরন এবং এতে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পারিবারিক বিরোধের মতো একটি বিষয় মীমাংসার উদ্যোগ থেকেই ঘটনাটি প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।









