ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিশৃঙ্খলার ঘটনায় উপজেলা যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ মোট নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও প্রায় পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষার কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ করে একদল ব্যক্তি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরীক্ষার খাতা ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য পরীক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হরিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। পাশাপাশি আরও প্রায় পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার যাদুরানী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার নীলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং আবুল হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।
হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হাকিম আজাদ জানান, নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শরীফুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে অভিযোগ ওঠা এই ঘটনাটি পরীক্ষার পরিবেশকে সাময়িকভাবে অস্থিতিশীল করে তোলে।
নিয়োগ পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পরীক্ষার স্থান | হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ |
| নিয়োগের পদ | চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী |
| ঘটনার ধরন | পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা |
| মামলা | নয়জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ জন অজ্ঞাত আসামি |
| গ্রেপ্তার | যুবদল নেতা শরীফুল ইসলাম শরীফ |
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
