জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ছাগলনাইয়ায় গ্রেফতার ৩

আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মতো অত্যন্ত জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় ঘটে যাওয়া এই অমানবিক ঘটনার পর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মাতব্বর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য গোপন সালিশ বসিয়ে মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরের দিকে পুলিশ ওই গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই সন্তানের জননী ওই নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা প্রতিবন্ধী। গত শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় এলাকার টমটমচালক সাকিব, আরমান এবং বাদশা নামের তিন যুবক তাকে আর্থিক সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তিনজন মিলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পাশবিক নির্যাতন শেষে তাকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে নির্যাতিতা নারী বাড়িতে এসে পরিবারকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন।
এদিকে গুরুতর এই অপরাধের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কিছু মাতব্বর ও মাতব্বর গোছের ব্যক্তিরা বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার ফন্দি আঁটেন। অভিযোগ রয়েছে, গত সোমবার রাতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক বসানো হয়। সেই অবৈধ বৈঠকে অভিযুক্তদের মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। আইনবহির্ভূতভাবে একটি ফৌজদারি অপরাধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মঙ্গলবার ভোরে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামে আকস্মিক অভিযান চালায়। এই অভিযানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা হলেন—উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামের মনির আহমদের ছেলে সাকিব (১৮), একই এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে ইয়াছিন (১৬) এবং আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরমান (১৫)। তবে এই ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্ত বাদশাকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আহাম্মদ মুন্না সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার এলাকার ভেতরে এমন একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। অপরাধের বিচার না করে এলাকার কিছু লোক যে অবৈধভাবে সালিশি বৈঠক বসিয়েছিল, তা পুরোপুরি আইনবিরোধী। তিনি এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন, আমার স্ত্রী প্রতিবন্ধী মানুষ। সহজ-সরল হওয়ার সুযোগ নিয়ে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার মিথ্যা লোভ দেখিয়ে ওই তিনজন তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। ঘটনার পর স্থানীয় সালিশদাররা আমাদের ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি করেন। সোমবার রাতের বৈঠকে অপরাধীদের মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং আমাদের জোর করে তা মেনে নিতে বাধ্য করা হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে অপরাধীদের ধরে নিয়ে আসে। আমি এই ঘটনার কঠিন ও সুষ্ঠু বিচার চাই।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন তরুণকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অপরাধের বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার বা মীমাংসা করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, সেটির সাথে স্থানীয় কারা জড়িত ছিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের বেআইনি কাজের সাথে যারাই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর