জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা কর্মসূচি: পুলিশের অবস্থানে ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌’অবরুদ্ধ‌‌’ বাংলাদেশ জাসদ কার্যলয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। দলের নেতাদের অভিযোগ, দলীয় কর্মসূচি পণ্ড করতে এবং কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করার জন্য পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে।

শনিবার(১৫ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন বলেন, “কার্যালয়ে দলীয় কর্মসূচি পণ্ড করতে এবং ভবনটি তালাবদ্ধ করার জন্য পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে।”

তবে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা শুনতে পেরেছি তারা সেখানে কোনো প্রোগ্রাম করবে, তো সেখানে কোনো ধরনের প্রোগ্রাম করার জন্য আমাদের কাছে অনুমতি নাই।”

সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন, “এটা ডেপ্লয়মেন্ট না, কোনো প্রোগ্রাম ঘিরে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে সেজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।”

এদিন বিকাল ৫টায় রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি রেখেছিল দলটি।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এ বর্বর ঘটনা এক অমোচনীয় কলঙ্ক হিসেবেই থেকে যাবে।”

দলটি বলেছে, “দেশে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জাতির এ কলঙ্ক দূর করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ জাসদ মনে করে।”

বাংলাদেশ জাসদের কার্যলয়ে অবরুদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বিসিএল) সভাপতি গৌতম শীল বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি মর্মান্তিক অধ্যায়। ওই দিনে শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করা হয়নি, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হন।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ও তাঁদের স্মরণ করার কর্মসূচিতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন গৌতম শীল।

বাংলাদেশ জাসদের নেতারা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পরবর্তী সময়ের কর্মকাণ্ড বা নেতৃত্বের বিতর্কিত ভূমিকার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা মুছে ফেলার চেষ্টা এক করে দেখা উচিত নয়। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা থাকতেই পারে; কিন্তু সে কারণে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং ওই দিনের শহীদদের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হতো। ২০২৪ সালে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।

Tags :

Ratul

Recent News