আজ ১২ আগস্ট বাংলা গানের ভুবনের চিরচেনা ও প্রিয় মুখ শিল্পী রুমানা ইসলামের জন্মদিন। শিল্প ও সংস্কৃতির আলো ছড়ানো এই বিশেষ দিনটিতে তাঁর প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং আন্তরিক শুভকামনা। শৈশবের সেই মায়াবী কণ্ঠ থেকে শুরু করে পরিণত বয়সের সুরের সাধনা—সব মিলিয়ে তিনি বাংলা সংগীত জগতে নিজের একটি স্বতন্ত্র আসন করে নিয়েছেন।
জন্মসূত্রে শিল্প ও সংস্কৃতির এক সোনালি উত্তরাধিকার পেয়েছেন রুমানা ইসলাম। তাঁর বাবা ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব খান আতাউর রহমান। আর মা মাহবুবা রহমান ছিলেন পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের অত্যন্ত খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। এমন একটি সাংস্কৃতিক পরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই গানের ভেতরেই বেড়ে উঠেছেন তিনি।
১৯৭০ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ‘আপন পর’ চলচ্চিত্রে ‘বেবি শ্রাবণী’ নামে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর শৈল্পিক পথচলা শুরু হয়। তবে অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি সংগীতকেই নিজের জীবনের মূল ব্রত হিসেবে বেছে নেন। তাঁর গাওয়া প্রতিটি গান শ্রোতাদের মনে গভীর দাগ কেটেছে। বিশেষ করে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘দিন যায় কথা থাকে’ চলচ্চিত্রের গানগুলো তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে। এই চলচ্চিত্রের ‘মায়ের মতো আপন কেহ নাই রে’ এবং ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে, আমি আর বাইতে পারলাম না’ গান দুটি আজ বাংলা গানের ইতিহাসে ক্লাসিক হিসেবে সমাদৃত। এই গানগুলোর কথা, সুর ও পরিচালনা করেছিলেন তাঁর বাবা নিজেই।
চলচ্চিত্রের গান থেকে শুরু করে আধুনিক গান—সব ধারাতেই সমান মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন রুমানা ইসলাম। তাঁর কণ্ঠে সুরের সেই জাদুকরী টান শ্রোতাদের আজও মুগ্ধ করে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রবাসের মঞ্চেও তিনি বাংলা গানকে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন এবং বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন।
গানের পাশাপাশি গণমাধ্যমেও তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন সংগীতানুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলের নানা অনুষ্ঠানে তাঁকে নিয়মিত গান পরিবেশন করতে দেখা যায়। এর বাইরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। তাঁর আদি পিতৃনিবাস ঐতিহ্যবাহী মানিকগঞ্জে। শিক্ষাজীবনে তিনি রাজধানীর মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলি ক্রস কলেজ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন।
সময় গড়িয়েছে, কণ্ঠের ক্যানভাস আরও সমৃদ্ধ হয়েছে, কিন্তু তাঁর গায়কীর সেই আদি ও অকৃত্রিম মায়া আজও অমলিন। শুভ জন্মদিন, প্রিয় শিল্পী রুমানা ইসলাম। আপনার সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি। আপনার কণ্ঠের অমিয় সুর আমাদের হৃদয়কে এভাবেই আলোড়িত করে রাখুক আজীবন।
মন্তব্য