শিল্পঘন এলাকা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হঠাৎ করেই একটি কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে ঘটা এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘনবসতিপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ওই গুদামে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা মারাত্মক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সানারপাড় এলাকার ওই কেমিক্যাল গোডাউন থেকে হঠাৎ করেই ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ওপরে উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন গোডাউনের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ ও অন্যান্য কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসে আরও তীব্র আকার ধারণ করে। গুদামের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও রাসায়নিক মালামাল পুড়তে শুরু করায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। মুহূর্তের জন্য অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা নিজেদের মতো করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে কাঁচপুর মডার্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ফায়ার ফাইটারদের দুটি ইউনিট অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায় এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দমকল বাহিনীর কর্মীদের পেশাদারত্ব ও সাহসিকতার কারণে আগুন পাশের অন্যান্য আবাসিক ভবনে বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরিফিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর ফলে পুে যাওয়া মালের আনুমানিক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই বিস্ফোরণ বা আগুনের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বিপজ্জনক কেমিক্যাল গোডাউন বা গুদাম স্থাপন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
মন্তব্য