জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৩ পিএম

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি খেলা নিশ্চিত হয়েছে। আফগানিস্তানের আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের জন্য বাছাইপর্বের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান ধরে রাখতে পারলে নয়, বরং বর্তমান হিসাবেই লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
আফগানিস্তান বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডকে তিন উইকেটে হারানোর পরই বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে যায়। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী শীর্ষ আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে শীর্ষ আটের বাইরে থাকলেও স্বাগতিক হিসেবে তাদের জায়গা নিশ্চিত থাকবে। সে ক্ষেত্রে মূল পর্বে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে মোট ১০টি দল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াও সরাসরি মূল পর্বে থাকবে।
বাংলাদেশের জন্য এই নিশ্চয়তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাছাইপর্বে না খেলতে হওয়ায় দলটি সরাসরি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে পারবে। দীর্ঘ বাছাইপর্বের অতিরিক্ত চাপ, ভ্রমণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঝুঁকি এড়ানোও সম্ভব হবে।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে তৈরি হয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। র্যাঙ্কিংয়ে তারা বর্তমানে দশ নম্বরে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারতের বিপক্ষে তাদের আরও দুটি ওয়ানডে খেলার কথা রয়েছে। তবে ওই দুই ম্যাচে জয় পেলেও শীর্ষ আটে ওঠার সুযোগ থাকছে না। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নামতে হবে ক্যারিবীয় দলকে।
২০২৩ সালের বিশ্বকাপেও সরাসরি জায়গা পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেবার বাছাইপর্বের সুপার সিক্স পর্বে পাঁচ নম্বরে থেকে বিদায় নেয় তারা। সেটিই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে না খেলার ঘটনা। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও জায়গা হয়নি তাদের। ২০১৩ সালের পর থেকে এই টুর্নামেন্টে আর খেলতে পারেনি ক্যারিবীয় দল।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। সেখানে অংশ নেবে র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে নিচে থাকা দুই টেস্ট খেলুড়ে দেশ—আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের সঙ্গে থাকবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ টু থেকে উঠে আসা চারটি দল এবং বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফ থেকে জায়গা করে নেওয়া আরও চার দল।
বাছাইপর্বের কাঠামোও এবার আগের চেয়ে ভিন্ন। বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা পাবে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলকে যেতে হবে প্রথম রাউন্ডে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপার সিরিজ’। সেখানে এই তিন দলের মধ্যে শীর্ষে থাকা দলটি দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পাবে।
এই নতুন কাঠামো নিয়ে সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে। বিশেষ করে বাছাইপর্বে ভালো করেও সরাসরি মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাছাইপর্বে জায়গা পাওয়ার আরেকটি পথ হলো ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ টু। সেখান থেকে সেরা চার দল সরাসরি বাছাইপর্বে উঠবে। অন্যদিকে লিগ টুর নিচের চার দল এবং চ্যালেঞ্জ লিগের চার দল মিলে আট দলের কোয়ালিফায়ার প্লে-অফ হবে। এই আট দলের সেরা চারটি দল বাছাইপর্বে জায়গা পাবে। প্লে-অফের নির্দিষ্ট ফরম্যাট অবশ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ক্রিকেটের তৃতীয় স্তর হিসেবে বিবেচিত চ্যালেঞ্জ লিগে থাকবে ১২টি দল। তাদের দুটি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিটি গ্রুপে ছয়টি করে দল রাখা হবে। পুরো প্রতিযোগিতায় প্রতিটি গ্রুপে তিনটি করে রাউন্ড-রবিন পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল কোয়ালিফায়ার প্লে-অফে উঠবে।
এই দীর্ঘ ও জটিল বাছাইপর্বের বাইরে থাকতে পারা বাংলাদেশের জন্য তাই স্বস্তির খবর। এখন দলের সামনে মূল লক্ষ্য হবে সরাসরি পাওয়া বিশ্বকাপের জায়গাটিকে কাজে লাগানো এবং ২০২৭ সালের মূল আসরের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া।
মন্তব্য