জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ছয় হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে শরিফুল ইসলাম ওরফে হিরা (৪০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে দিনদুপুরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড় সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম গোয়ালন্দ পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার মৃত জাবেদ শেখের ছেলে এবং গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের উপপ্রচার সম্পাদক ছিলেন। সংগঠনের সভাপতি শেখ সোহেল নিহতের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কামরুল ফকিরের (৩৫) সঙ্গে নিহত শরিফুলের বেশ কিছু দিন ধরে দেনা-পাওনা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। প্রায় দুই মাস আগে কামরুলের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা ধার নেন শরিফুল। পরবর্তীতে কয়েক দফায় কিছু টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট অর্থ দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আজ সকালে শরিফুল বাড়ি থেকে বের হয়ে তোড়াইয়ের মোড় এলাকায় পৌঁছালে কামরুল তাঁর গতিরোধ করেন এবং পাওনা টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
নিহতের চাচা স্থানীয় শিক্ষক রবিন নুরতাজ জানান, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে শুরুতেই তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা গড়ায় হাতাহাতিতে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কামরুল তাঁর কাছে থাকা ধারালো চাকু বের করে সরাসরি শরিফুলের বুকে বসিয়ে দেন। আঘাতের পরপরই শরিফুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অভিযুক্ত কামরুল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
স্বামীর আর্তচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান শরিফুলের স্ত্রী শামসুন্নাহার মুক্তা। তিনি জানান, সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান স্বামীর বুকে তখনও চাকুটি বিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শরিফুল বুক থেকে চাকুটি বের করে দেওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে কাকুতি-মিনতি করছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বুক থেকে রক্তাক্ত চাকুটি টেনে বের করা হয়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। ঘটনার দুই ঘণ্টার মাথায় দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে আটক করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ।
ঘটনার পেছনে কেবল ধারের টাকাই নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড় থেকে কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে মাদকের অবৈধ লেনদেন চলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন। এলাকার একটি সামাজিক অংশের দাবি, নিহত শরিফুল ও অভিযুক্ত কামরুল—উভয়েই প্রতক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফলে কেবল সামান্য ঋণের টাকা নাকি মাদকের আড়ালে থাকা বড় অঙ্কের আর্থিক ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে এই রক্তপাত ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার।
খবর পেয়ে রাজবাড়ী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার একটি বিশেষজ্ঞ পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থল সরজমিনে পরিদর্শন করেন। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওনা টাকার দ্বন্দ্বকেই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে মনে হলেও, এর পেছনে মাদকের লেনদেন বা অন্য কোনো পুরোনো শত্রুতা ছিল কি না, তাও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
মন্তব্য