দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮৩ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১০০ জনের। ফলে এক দিনেই হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম ও হাম উপসর্গের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৯৫১ জনের। আর হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন।
এই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন। অর্থাৎ কয়েক মাস ধরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৮০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছেন ১০১ জন।
দুই ধরনের মৃত্যুর হিসাব একত্র করলে ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮১ জনে। এর মধ্যে হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হাম এবং হাম উপসর্গের তথ্য আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বুঝতে হলে দুই শ্রেণির পরিসংখ্যান আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। বিপরীতে একই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর খবর এসেছে।
আক্রান্ত ও মৃত্যুর পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার সংখ্যাটিও পরিস্থিতির আরেকটি দিক তুলে ধরে। ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৪ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৮০ জন রোগী হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সংখ্যার মধ্যে ১ হাজার ১৮৩ জনের ক্ষেত্রে হাম উপসর্গের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১০০ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
দীর্ঘ সময়ের মোট হিসাবের সঙ্গে দৈনিক নতুন রোগীর সংখ্যা মিলিয়ে দেখলে দেশে হাম পরিস্থিতির ব্যাপ্তি সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৯৫১। একই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩।
হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর পরিচিত উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ থাকলেই তাকে নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে গণনা করা হয় না; নিশ্চিত রোগ নির্ধারণের জন্য চিকিৎসকদের ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে তাই নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়া রোগী এবং হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হিসাব পৃথক রাখা হয়েছে। একইভাবে মৃত্যুর ক্ষেত্রেও দুটি শ্রেণির তথ্য আলাদাভাবে দেওয়া হয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। নতুন করে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর তথ্য সেই মোট সংখ্যাকে আরও বাড়িয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীর সংখ্যাও এক হাজারের বেশি থাকায় পরিস্থিতির ওপর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।









