জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৬:৩ পিএম

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে চৌদ্দ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তানভীর (২৪) নামের এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ধুলিয়া গ্রাম থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। আটক তানভীর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী শিশুটি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ধুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সে পড়াশোনার সুবাদে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা এলাকার ওই মাদ্রাসায় থেকে লেখাপড়া করছিল। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক তানভীর দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ওই শিশুকে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি নির্যাতনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। গত কয়েকদিন আগে ওই শিশুটিকে মাদ্রাসার দোতলার একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবারও নির্যাতন চালান অভিযুক্ত শিক্ষক। ঘটনাটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিবার বা অন্য কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয় শিশুটিকে।
শিক্ষকের ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শিশুটি। পরবর্তীতে সে কৌশলে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে এবং স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনার নির্মম বর্ণনা দেয়। ঘটনা জানার পর ভুক্তভোগীর পরিবার ও ধুলিয়া গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে ধুলিয়া গ্রাম এলাকা থেকে আটক করেন এবং হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পেয়ে হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষক তানভীরকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শিক্ষক তানভীর শিশুটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন।
ঘটনার আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) অসিত কুমার রায় জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ধুলিয়া গ্রামে যায় এবং অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তবে যেহেতু অপরাধটি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানা এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, তাই আইনগত ও বিচারিক এখতিয়ারের স্বার্থে ভুক্তভোগী পরিবারকে আলমডাঙ্গা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে হবে। মামলা দায়েরের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য