জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৪ পিএম

দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক রয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংক্রমণের ধারাবাহিকতায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে এক হাজার ১৭ জনকে সন্দেহজনক হামরোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৫ জনে।
একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৯৪১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবের সময়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৮২২ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ৫২৫ জন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৭৬৭ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মোট ৯৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের প্রধান লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে অপুষ্টি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা অন্যান্য জটিলতা তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য