জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫৩ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর চশমা হিল এলাকায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পৈতৃক বাসভবনে দুর্বৃত্তরা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে এ ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক জনপ্রিয় মেয়র মরহুম এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঐতিহাসিক বাসভবন হিসেবে পরিচিত এই বাড়িটিতে হামলার ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল সুযোগসন্ধানী ও অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত চশমা হিলের ওই বাসভবনের সামনে জড়ো হয়। তারা হঠাৎ করেই জোরপূর্বক প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ভাঙচুর চালাতে শুরু করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ভবনের নিচের অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ফলে ভবনের গ্যাস পাইপলাইনেও আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করে। গভীর রাতে চশমা হিল এলাকায় হট্টগোল ও আগুনের শিখা দেখে স্থানীয় অধিবাসীরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা অনতিবিলম্বে ঘটনাস্থল ছেড়ে চম্পট দেয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকে কিছু নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া এই বাসভবনে পরিবারের কোনো সদস্য বা স্বজন থাকেন না। তাই শেষ পর্যন্ত এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হামলা ও অগ্নিসংযোগের সংবাদ পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বিত টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে আগুন বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরে ভবনের প্রধান ফটক, নিচতলার আসবাবপত্র এবং বেশ কিছু কাঠামোগত যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে ঠিক কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
পাঁচলাইশ থানা পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার সার্বিক বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, “বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে চশমা হিলের বাসভবনে হামলার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খবর পাওয়ার পর থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।”
অপ্রীতিকর ঘটনা ও সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে চশমা হিল ও এর পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশি টহল ও সার্বক্ষণিক পাহারা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত হলেও একধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চশমা হিল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য