কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে দেওয়া হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে পুলিশকে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে গত ২ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছিলেন। জামিনের পাশাপাশি হাফিজুর রহমানকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন আদালত। সে সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাব্বির হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম ও মীর মনিরুজ্জামান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন ভূঁইয়া।
হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশের পর কারামুক্ত হন আসামি হাফিজুর। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিচার বিভাগীয় ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষ তড়িঘড়ি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন জানায়। আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে আসামিকে আত্মসমর্পণের এই আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, ৫২ বছর বয়সী হাফিজুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। তনু হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছের একটি ঝোপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় একাধিক তদন্ত সংস্থার হাত ঘুরে মামলাটি বর্তমানে পিবিআইয়ের অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে।









