জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম

স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার নাবিল ইউসুফকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত শুনানি শেষে নাবিল ইউসুফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে উত্তরা পূর্ব থানা-পুলিশ তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ‘ভিসাগাইড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসায় বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়। মামলার বাদী জারিন তাসনীমসহ অন্তত ৩৬ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অর্থ গ্রহণের পর ভুক্তভোগীদের চেক ও রসিদ দেওয়া হলেও প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে কাউকেই বিদেশে পাঠানো হয়নি। পাশাপাশি নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁরা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। গত ৫ জুলাই তাঁরা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, অফিসটি আগের জায়গায় নেই। এরপর বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই উত্তরা পূর্ব থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন জারিন তাসনীম। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজার এলাকা থেকে নাবিল ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাত ভাইয়াপাড়া এলাকায়।
এই মামলায় নাবিল ইউসুফ ছাড়াও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে সাব্বির হোসেন, মতিউর রহমান, সাইদুর রহমান ও রাবেয়া খাতুন তানিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, নাবিল ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম, অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি, এই ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং আত্মসাৎ করা অর্থের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে আরও কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, স্টুডেন্ট ভিসার নামে প্রতারণার অভিযোগে অনেক সময় ভুয়া প্রতিশ্রুতি, জাল কাগজপত্র এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা সামনে আসে। এ মামলার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, অর্থ লেনদেনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য