জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং জ্বালানি পরিবহনের প্রধান ধমনী বলে খ্যাত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং কৌশলগত শক্তি ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের তিক্ততা এখন চরম অনিশ্চয়তার রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংকট নিরসন এবং তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলে খবর পাওয়া গেলেও, বাস্তবে এখনও কাটেনি আশঙ্কা। কাতারভিত্তিক বার্তা সংস্থা আলজাজিরার এক বিশদ প্রতিবেদনে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিস্তারিত উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আন্তর্জাতিক নৌপথ সচল ও সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে তেহরানের সাথে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি এখনও চুক্তি বা চূড়ান্ত সমঝোতার রূপ নেয়নি। খুব শীঘ্রই কোনো সুসংবাদ আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেন যে, দুই দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা হরমুজ ইস্যুতে একটি স্থায়ী সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এমন আত্মবিশ্বাসী প্রচারণাকে নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কোনো সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্রের মতে, তারা মার্কিনদের সাথে কোনো ধরনের সংলাপে বসছে না, বরং বন্ধুরাষ্ট্র ওমানের মধ্যস্থতায় আঞ্চলিক ভারসাম্য ও নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতের চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ আধিপত্য ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে তেহরান তাদের নিজস্ব শর্তেই এগিয়ে যেতে চাইছে।
উল্লেখ্য, সারাবিশ্বে প্রতিদিন ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের অন্তত ২০ শতাংশের বেশি জোগান এই অত্যন্ত সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। ফলে পরাশক্তি দুটির এই মুখোমুখি অবস্থান, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং সামরিক উপস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কোনো পক্ষ থেকে সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বা উসকানি পুরো অঞ্চলের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিকে এক মহা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
মন্তব্য