জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় যা ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত) নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে রাজনৈতিক বিতর্ক ফের তীব্র রূপ নিয়েছে। অতি সম্প্রতি বিশ্বকাপে যুক্তরাজ্যের বিপক্ষে ম্যাচের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ সংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা) ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। খেলার মাঠে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের পরিপন্থী নীতিমালার অধীনে ফিফার এই তদন্ত চলাকালীনই বিষয়টিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে দেশটির দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব আলমিরান্তে ব্রাউন।
রেসিং দে কর্দোবার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিভাগের লিগ ম্যাচে নিজেদের চিরাচরিত হলুদ-কালো ডোরাকাটা পোশাক বদলে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার নীল-সাদা স্ট্রাইপের একটি বিশেষ জার্সি পরে মাঠে নামে আলমিরান্তে ব্রাউনের ফুটবলাররা। এই বিশেষ জার্সির বুকের ওপর বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’। শুধু তাই নয়, জার্সির পেছনের অংশে নম্বরযুক্ত জায়গার নিচে আঁকা ছিল জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির দু’হাত আসমানের দিকে তুলে বিখ্যাত গোলের উদযাপনের ছবি। ক্লাবের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানানো হয়, মালভিনাসকে স্মরণ করে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে নিজেদের গর্ব প্রকাশ করতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জয়ের পর দলটির শুরুর একাদশের ছবির ক্যাপশনে তারা লেখে—“ওরা আর্জেন্টাইন!”
ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ফিফার আইন অত্যন্ত কঠোর। এর আগে ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল সংস্থাটি। এবারও ফিফার তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে জাতীয় দল বা কোচিং স্টাফদের ওপর প্রশাসনিক শাস্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটি ১৮৩৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১৯৮২ সালে উভয় দেশ ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়ায়, যেখানে প্রাণ হারান ৯১০ জন সেনা। পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরলেও আর্জেন্টাইনদের আবেগ ও জাতীয়তাবাদে আজও ফকল্যান্ড বা মালভিনাস তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবেই অমলিন রয়েছে।
মন্তব্য