জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম

প্রবাসী ও বিদেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলের কাঠামোয় যুক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের পর এবার বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে নতুন মুখ হিসেবে যোগ হতে চলেছেন ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস। আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বকে সামনে রেখে দলকে আরও শক্তিশালী করাই বাফুফের মূল লক্ষ্য।
সোমবার বাফুফে ভবনে ডেভেলপমেন্ট কমিটির সভা শেষে অ্যাডাম আব্বাসকে দলে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফেডারেশনের সহসভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। তিনি জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে এসে জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেবেন আব্বাস।
ইংল্যান্ডে বেড়ে উঠলেও আব্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তার মায়ের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেই সূত্রেই বাংলাদেশের সঙ্গে তার যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। বিদেশে বেড়ে ওঠা এই তরুণ ফুটবলারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বয়সভিত্তিক দলকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে চায় বাফুফে।
আব্বাসের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু ইংল্যান্ডের অন্যতম পরিচিত ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব একাডেমিতে। সেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুটবলের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি বার্নলির অনূর্ধ্ব-১৮ দলে যোগ দেন। ইংল্যান্ডের মতো প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল কাঠামোর মধ্যে বেড়ে ওঠা এবং যুব পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলের জন্য তার সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
খেলার ধরনেও আব্বাসকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তার অন্যতম শক্তি গতি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ওপর চাপ তৈরি করতে দ্রুতগতির দৌড়ের পাশাপাশি ড্রিবলিংয়ের দক্ষতাও রয়েছে তার। গোল করার সহজাত প্রবণতাও তাকে আক্রমণভাগে কার্যকর করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একজন উইঙ্গার হিসেবে আক্রমণের দুই প্রান্তে গতি তৈরি করা এবং সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা তার বড় সম্পদ হতে পারে।
বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী বা বিদেশে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির আলোচনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। ইংলিশ ফুটবলে অভিজ্ঞ হামজা চৌধুরীর জাতীয় দলে আসার পর সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একইভাবে শমিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের উপস্থিতিও দেশের ফুটবলে বিদেশে বেড়ে ওঠা প্রতিভাদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে।
আব্বাসকে অবশ্য এখনই জাতীয় দলের স্থায়ী খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রথমে তাকে অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিয়ে কোচিং স্টাফের সামনে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে। সেখানে তার পারফরম্যান্স, দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি—সবকিছুই মূল্যায়ন করা হবে।
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ। এই পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে দলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের পাশাপাশি দ্রুতগতির এবং সৃজনশীল আক্রমণভাগের প্রয়োজন রয়েছে। আব্বাস সেই জায়গায় নতুন একটি বিকল্প তৈরি করতে পারেন বলে আশা করছে বাফুফে।
তবে তার বাংলাদেশ দলে ভবিষ্যৎ পথচলা নির্ভর করবে প্রস্তুতি ক্যাম্পে পারফরম্যান্স ও নির্বাচকদের মূল্যায়নের ওপর। আপাতত আব্বাসকে ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু তার সম্ভাব্য আগমন এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার অপেক্ষা।
হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের পর আব্বাসের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী প্রতিভা খোঁজার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার আরেকটি দৃষ্টান্ত। ইংল্যান্ডের যুব ফুটবল কাঠামো থেকে উঠে আসা এই তরুণ উইঙ্গার যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে মেলে ধরতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আক্রমণভাগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পেতে পারেন।
মন্তব্য