জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হওয়া গুঞ্জন মুহূর্তেই অনিশ্চয়তায় রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন অবিলম্বে আলোচনা শুরুর বিষয়ে উচ্চাশা প্রকাশ করলেও, সেই দাবিকে সম্পূর্ণ রূপকথা ও বাস্তবতাবিহীন আখ্যা দিয়ে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। গত সোমবারের এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ওই দিন বা নিকট ভবিষ্যতে আমেরিকার সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সংলাপে বসার কোনো পরিকল্পনা বা সুযোগ তাঁদের নেই।
এই নতুন কূটনৈতিক তোলপাড়ের সূত্রপাত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। নিজ সরকারি বিমান ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ সফরকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, সোমবার বিকেল থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের বিষয়টির পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় তেহরানের তরফ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই ওয়াশিংটনের সমস্ত দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার মতো কোনো সময়সূচি বা এজেন্ডা তাদের কাছে নির্ধারিত নেই। একই সঙ্গে এই দিনগুলোতে কোনো মার্কিন বা বিদেশি প্রতিনিধি দলকে তেহরানে স্বাগত জানানো কিংবা আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের কোনো প্রতিনিধি দলকে বিদেশে পাঠানোর কোনো চিন্তা বা সিদ্ধান্ত সরকারের মধ্যে বিবেচ্য নয়।
কূটনৈতিক অবস্থানের স্পষ্টতা বজায় রেখে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, প্রতিনিধি দলের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বর্তমানে পূর্বনির্ধারিত এক ধর্মীয় সফরে ইরাকে অবস্থান করছেন। চলতি সপ্তাহের আগে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে প্রধান কূটনৈতিক অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে ওয়াশিংটনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো পক্ষের সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অন্য দিকে ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয় বা যুদ্ধ এড়াতেই তিনি আলোচনার পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধে তিনি সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে আলোচনায় সায় দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, সামরিক সংঘাত তৈরি হলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাম্য নয়; বরং আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোই শ্রেয়।
তবে তেহরানের এই সাম্প্রতিক কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, দূর প্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীদের নেওয়া সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আবারও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ও অচলাবস্থার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য