জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৬:৯ পিএম

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ৫৪৪ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ফলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার চাপ আরও বেড়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনেকের জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই জ্বরসহ ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু মূলত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এ মশার বংশবিস্তার ঘটে। বাসাবাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি, ছাদ কিংবা বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা পাত্রে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে এডিস মশার বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে তিন দিনের বেশি সময় কোনো স্থানে পানি জমে থাকতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ওঠানামা করছে। নতুন করে তিনজনের মৃত্যু এবং ৫৪৪ জন আক্রান্ত হওয়ার সর্বশেষ তথ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় রোগী শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা এবং মশার প্রজননস্থল নির্মূল—এই তিনটি বিষয় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।
মন্তব্য