,

শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জামায়াত নেতা বহিষ্কার

রাজশাহীর পবা উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওমর ফারুক (৪২) নামে এক জামায়াত নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দলীয় রুকন পদ বাতিল করে সব সাংগঠনিক পদ ও দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১ আগস্ট রাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পবা থানা পুলিশ ওমর ফারুককে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পরদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পবা থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

ওমর ফারুক পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের বড়গাছি পাকারমাথা গ্রামের বাসিন্দা। দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের আগে তিনি ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের রুকন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেশায় তিনি একজন গ্রাম্য চিকিৎসক। তাঁর নিজস্ব একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। তাঁর ভাই আবু বকর একই ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওমর ফারুক তাঁর বাড়িতে ‘ফারুক ফার্মেসি’ নামে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি বাড়ির একটি কক্ষে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন। গত ১২ জুলাই গ্রামের নয় বছর বয়সী ওই শিশুটি ধর্মীয় শিক্ষা নিতে তাঁর বাড়িতে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় অন্য শিশুদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি শিশুটিকে একা রেখে যৌন নিপীড়ন করেন।

শিশুটি পরে বাড়িতে ফিরে এলে তার মা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটির কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরাও সেখানে জড়ো হন। পরে শিশুটি তার মা ও উপস্থিত লোকজনের কাছে ঘটনার কথা জানায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন ওমর ফারুকের বাড়ি ঘেরাও করেন। তবে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় স্থানীয় জামায়াত নেতারা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার উপযুক্ত বিচার ও শাস্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রায় ১৯ দিন পার হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ৩১ জুলাই শিশুটির মা থানায় মামলা করেন। এর একদিন পরই পুলিশ ওমর ফারুককে গ্রেফতার করে।

বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুর রহমান মিলন রোববার রাতে বলেন, ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করেছেন এবং প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর রুকন পদ বাতিল করা হয়েছে এবং দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগটি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতির পরিপন্থী এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হলেও আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।