,

প্রতিবছর এক ক্ষুদ্র ক্লাবকে গোলবন্যায় ভাসায় বায়ার্ন, নেপথ্যে চার দশকের অনন্য ঐতিহ্য

জার্মানির নবম স্তরের অপেশাদার ফুটবল দল এফসি রোটাখ-এগার্নের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখের প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচের স্কোরলাইনগুলো দেখলে যে কারও চোখ ছানাবড়া হতে বাধ্য। ১৫-০, ২৭-০ কিংবা ২৩-০—এমন অবিশ্বাস্য ফল কোনো অবাস্তব গল্প নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে ঘটে চলা এক চমকপ্রদ বাস্তবতা। সম্প্রতি বাভারিয়ার সুন্দর বুর্কেনমুজ স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ১৫-০ গোলে ভাসিয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। এর আগের দুই দেখায় তাদের জয়ের ব্যবধান ছিল যথাক্রমে ২৭-০ ও ২৩-০।

প্রতি মৌসুমে এত বড় ব্যবধানে হারার পরও কেন বায়ার্নের মতো ইউরোপসেরা ক্লাব এই পুচকে দলের মুখোমুখি হয়, সেই কৌতুহল বিশ্বজুড়ে বহু ফুটবলপ্রেমীর।

১৯৮৬ সালের সিদ্ধান্ত ও টেগার্নসি উপত্যকার টান

এই অদ্ভুত সুন্দর প্রথার পেছনে রয়েছে চার দশক আগের এক ঐতিহাসিক গল্প। ১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো রোটাখ-এগার্ন অঞ্চলে নিজেদের প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতি শিবিরের আয়োজন করে বায়ার্ন মিউনিখ। মিউনিখ শহর থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত পাহাড়ি টেগার্নসি উপত্যকার চমৎকার আবহাওয়া এবং অনুশীলনের পরিবেশ আধুনিক পেশাদার ফুটবল দলের জন্য নিখুঁত।

প্রথমবার ক্যাম্প করার পর থেকেই শহরটির একটি স্থানীয় হোটেলে নিয়মিত ওঠা এবং প্রাক্-মৌসুমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা বায়ার্নের স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হয়। মাঝে কেবল সাবেক তারকা ফুটবলার ও কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের মেয়াদের সময় এই অনুশীলনে কিছুটা ছেদ পড়েছিল। পরবর্তীতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ আবার তাদের পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে আসে। উল্লেখ্য, মনোরম এই ভেন্যুতে কেবল বায়ার্ন নয়, সুইজারল্যান্ডের এফসি বাসেল, বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ এবং ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলও বিভিন্ন সময় নিজেদের সামার ক্যাম্প সম্পন্ন করেছে।

জয়-পরাজয়ের উর্ধ্বে স্থানীয় ফুটবল উৎসব

খেলার মাঠে শক্তির বিচারে বায়ার্ন ও রোটাখ-এগার্নের মাঝে কোনো তুলনা চলে না। তবে রোটাখ-এগার্নের স্থানীয় মানুষদের কাছে এই বার্ষিক লড়াই কেবল হার-জিতের খেলা নয়, বরং পরম আনন্দের এক গ্রামীণ উৎসব। বিশ্ব তারকাদের মুখোমুখি হওয়ার এমন বিরল মুহূর্তকে পরম আনন্দে উদযাপিত করেন তারা।

সর্বশেষ ম্যাচেও সেই আনন্দের জোয়ার দেখা গেছে স্টেডিয়ামজুড়ে। ম্যাচের শেষ দিকে রোটাখ-এগার্নের ক্লাব কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) লুকাস পেৎসোল্ড মাঠে নামলে দর্শকরা মেতে ওঠেন আনন্দ-উল্লাসে। এভাবে মাঠের বড় ব্যবধানের স্কোরলাইনকে পেছনে ফেলে বায়ার্ন মিউনিখ ও এফসি রোটাখ-এগার্নের এই প্রীতি দ্বৈরথ জার্মান ফুটবলের এক সুন্দর সৌহার্দ্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বেঁচে আছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।