জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ঐতিহ্যবাহী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের রুমে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ যুক্ত থাকার অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্ত চলাকালে রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে এ উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, শনিবার ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কক্ষ থেকে দু’জন ব্যক্তিকে অনৈতিক বা আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলার কয়েকটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ ও ভবিষ্যতে এ জাতীয় কাজ না করার অঙ্গীকার করতে দেখা যায়। বিষয়টি ঘিরে মুহূর্তেই তোলপাড় শুরু হলে রবিবার বিকেলে জরুরি তদন্তে বসে হল প্রশাসন।
তদন্ত চলাকালে প্রাধ্যক্ষ কক্ষে এজিএস ও তার কক্ষ সঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়। ঠিক সে সময় হলের পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীরা দরজার বাইরে ও হলের বারান্দায় ভিড় জমায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তদন্ত চলাকালে বাহির থেকে ছাত্রদল সমর্থিত একদল শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত থাকা শিবির সমর্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে চরম কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘাত ও হট্টগোলে রূপ নেয়।
ছাত্রদলের দাবি: শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক শান্তর অভিযোগ, এজিএস ইব্রাহীম খলিলকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে শিবির পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিচ্ছে। এমনকি প্রমাণ লোপাটের অংশ হিসেবে আগের দিনের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলারও অভিযোগ তোলেন তিনি। শান্ত জানান, তারা প্রশাসনিক কাজের নিরপেক্ষতা চাইতে গেলে শিবিরের ক্যাডাররা পিছন থেকে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর আচমকা হামলা চালায়।
শিবিরের দাবি: অপরদিকে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান পাল্টা দাবি করে বলেন, তদন্ত কাজ যখন সুষ্ঠুভাবে চলছিল, তখন ছাত্রদলের কর্মীরা অহেতুক বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে কক্ষে হানা দেয়। পরবর্তীতে তাদের একজন কর্মী সচিত্র প্রমাণ রাখতে ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে তার ওপর বেপরোয়া চড়াও হয় ছাত্রদল। নিরাপত্তা রক্ষায় প্রাধ্যক্ষের কামরায় আশ্রয় নিলেও সেখানেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তার।
ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে অভিযুক্ত এজিএস ইব্রাহীম খলিল বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকায় আসা তার এক আত্মীয় কিছুটা সময় বিশ্রামের জন্য কক্ষে থাকতে চেয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে অপর একজন সঙ্গী ছিলেন। খলিলের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় তিনি নিজে মাওয়ায় ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং ভিডিও দেখেই পুরো বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এতে তার কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে প্রাধ্যক্ষ কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে সেদিনই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করে ঢাবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে শাখা শিবিরের সভাপতি মু. মহিউদ্দিন খান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
সহিংস ঘটনার পর ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা পদত্যাগ করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়লেও উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তা গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, প্রাধ্যক্ষ তাঁর পদেই বহাল আছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন জানান, প্রাথমিক উত্তেজনার খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য