জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে এক অলৌকিক ও বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২৫ বছর আগে মৃত্যুবরণ করে দাফন হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার দাবি করেছেন গ্রামবাসী। মৃত স্ত্রীর দাফনের জন্য কবর খনন করতে গিয়ে ঘটে এই অভাবনীয় ঘটনা। অলৌকিক এই খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে হাজারো উৎসুক মানুষ ভিড় জামান এক নজর দেখার জন্য। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার উলুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম রমজান আলীর স্ত্রী বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে স্বামী রমজান আলীর কবরের পাশেই স্ত্রীর কবর খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কবর খননকারীরা কাজ শুরু করার একপর্যায়ে দেখতে পান, ২৪ বছর আগে দাফন করা রমজান আলীর দেহের অবশিষ্টাংশ তো নয়ই, বরং তার পুরো শরীর কাফনের কাপড়সহ একেবারে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। কাফনের কাপড়ে কোনো দাগ বা পচন ধরার চিহ্ন পর্যন্ত ছিল না বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনার সময় উপস্থিত উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত কবরস্থানে যান এবং স্বচক্ষে কাফনে মোড়ানো অক্ষত মরদেহটি দেখতে পান। তিনি বলেন, “ইসলাম ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ধার্মিক ও পরহেজগার ব্যক্তিদের শরীর আল্লাহ তাআলা মাটিতে পচতে দেন না। আমরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে মরদেহটি যেভাবে ছিল সেভাবেই রেখে পাশে স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিই।”
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, প্রায় আড়াই দশক আগে মারা যাওয়া রমজান আলী জীবদ্দশায় অত্যন্ত সৎ, ন্যায়পরায়ণ এবং ধার্মিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় হাটবাজারে চাল ও আটার ব্যবসা করে তিনি অত্যন্ত হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করতেন এবং মানুষের বিপদে-আপদে সাধ্যমতো পাশে দাঁড়াতেন। তার এই সাদা মনের জীবনযাপনের কারণেই মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে এই অলৌকিক সম্মান দান করেছেন বলে বিশ্বাস স্থানীয় প্রবীণদের।
ধর্মীয় অনুভূতি ও অলৌকিকতার পাশাপাশি এই ঘটনাটি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাটির সত্যতা ও বৈজ্ঞানিক দিক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা মোহাম্মদ সারওয়ার আকবর জানান, সচরাচর দাফনের কিছুদিনের মধ্যেই মাটিতে অণুজীব ও ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় মানবদেহে পচন ধরে। তবে কিছু বিশেষ ভৌগোলিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, মাটি যদি অত্যন্ত শুষ্ক, এয়ারটাইট (বায়ুরোধক) অথবা বিশেষ রাসায়নিক গুণসম্পন্ন হয়, কিংবা সেখানে পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি না থাকে, তবে মরদেহ মমিভুক্ত অবস্থায় বছরের পর বছর পচনহীন থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা কেবল বিশদ ময়না তদন্ত (পোস্টমর্টেম) ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব।
বর্তমানে পুরো এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে তীব্র কৌতুহল ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় অনুশাসন ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার এই মেলবন্ধনে সাধারণ মানুষের মাঝে বিস্ময় যেন কোনোভাবেই কমছে না।
মন্তব্য