জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২৬ পিএম

রাজশাহীর পবা উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকা থেকে অভিযুক্ত ওমর ফারুককে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া ওমর ফারুক জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। নিজের বাড়ির সঙ্গে একটি ফার্মেসিও পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও তার স্ত্রী বাড়িতে শিশুদের ব্যক্তিগতভাবে পড়াশোনার ব্যবস্থা করতেন। তার বড় ভাইও একই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী শিশুটি নিয়মিত ওমর ফারুকের বাড়িতে পড়তে যেত। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রায় ২২ দিন আগে প্রতিদিনের মতো পড়তে গেলে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্য শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর শিশুটিকে একা পেয়ে অভিযুক্ত তার শরীরে অনৈতিকভাবে স্পর্শ করেন। বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করে এবং পরে মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।
শিশুটির মায়ের দাবি, বিষয়টি জানার পর তারা শুরুতে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি অভিযুক্তের বাবাকে জানানো হলেও তিনি বিষয়টি বেশি বাড়িয়ে না নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে সন্তুষ্ট না হয়ে পরিবারটি শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ করে।
অন্যদিকে, ওমর ফারুক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শিশুটি মূলত তার স্ত্রীর কাছেই পড়াশোনা করত। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় তিনি শিশুদের পড়াচ্ছিলেন। তবে অভিযোগে বর্ণিত কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ তিনি করেননি বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তার বাবাও অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন বলেন, ওমর ফারুক সংগঠনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন রোকন। বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, ভুক্তভোগী শিশুর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়ায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীর বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হবে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিশু অধিকার ও আইন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুতর বিষয়। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং, পরিবারকে সহায়তা এবং শিশু-বান্ধব পরিবেশে তদন্ত পরিচালনা করা উচিত, যাতে শিশুর ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি না হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা আদালত ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করার সুযোগ নেই। আইনের শাসন বজায় রাখতে যথাযথ তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণই একটি ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত।
মন্তব্য