জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিএনপির সংসদ সদস্যের গাড়িবহরে হামলা, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে উপজেলার পৃথক দুটি এলাকা থেকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ধুনট উপজেলার আড়কাটিয়া গ্রামের আলী সরকারের ছেলে এবং কালেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিঠু (৫০) এবং জোলাগাঁতী গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ও ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক লাবলু খন্দকার (৩৮)।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধুনটের কলাপট্টি এলাকায় বিএনপির তৎকালীন প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নির্বাচনি গণসংযোগ চলাকালে তাঁর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় দুটি জিপ ও দুটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। একই সময় ১০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পর ধুনট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহীন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে লাবলু খন্দকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ জুন ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরনশাহী এলাকায় বিএনপির একটি কর্মীসভাকে কেন্দ্র করে আরেকটি সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশাদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থানায় মামলা করেন।
এই মামলায় নজরুল ইসলাম মিঠুকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে একই রাতে ধুনটের দুটি পৃথক মামলায় আওয়ামী লীগের দুই নেতার গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব মামলায় আরও যারা আসামি রয়েছেন, তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মামলায় কারও নাম থাকা বা গ্রেফতার হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য