জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৭:১৭ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক ও অভিযোগে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে এখতিয়ারবহির্ভূত হস্তক্ষেপ, শিক্ষকদের হুমকি, হামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য—বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগে তার নাম এসেছে। সর্বশেষ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে আম্মারকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্যাম্পাসে একধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিই নয়, তার সঙ্গে থাকা অনুসারীদের মধ্যেও সংঘাতের ক্ষেত্রে নির্ভীক হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেও কোনো কোনো ঘটনায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং অনেকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে বা অভিযোগ জানাতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
অবশ্য এসব অভিযোগের অনেকগুলোই অস্বীকার করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার। তার বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই তাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। সর্বশেষ গ্রন্থাগারে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি দাবি করেছেন, ঘটনাটি আগের একটি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘটেছে। ৭৬ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহের অভিযোগও তিনি নাকচ করে বলেছেন, ওই পরিমাণ অর্থ তিনি পাননি; বাস্তবে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র আড়াই লাখ টাকা।
Table of Contents
রাকসুর জিএস নির্বাচিত হওয়ার আগে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। ওই আন্দোলনের সময় আম্মার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে তৎকালীন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনকে জুবেরী ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং উপ-উপাচার্যের ওপর হামলার অভিযোগও সামনে আসে।
ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও আম্মার তখন দাবি করেন, শিক্ষকরা তাদের কাছে পিতৃতুল্য এবং তাদের গায়ে হাত তোলার প্রশ্নই ওঠে না। তবে ওই সময়ের ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, আন্দোলনের ধরন এবং ক্যাম্পাসে সহিংসতার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আম্মারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই হামলায় তার ভূমিকা ছিল। মাসুদ এর আগে প্রতিপক্ষের হামলায় একটি পা হারিয়েছিলেন এবং কৃত্রিম পা ব্যবহার করে চলাফেরা করতেন।
তবে ওই ঘটনায় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন আম্মার। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত পর্যায়ে আলোচনা হলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কী ধরনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করেন।
রাকসুর জিএস নির্বাচিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে আম্মারের এখতিয়ারবহির্ভূত হস্তক্ষেপের অভিযোগও সামনে আসে। একটি শিক্ষক সংগঠন বিবৃতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলে।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন ডিনের পদত্যাগপত্র হাতে নিয়ে আম্মার সাংবাদিকদের সামনে তাদের ফোন করে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান ভিন্ন। এই ঘটনাগুলোকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা ও ক্ষমতার সীমা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য কাজ করবে—এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ছাত্র প্রতিনিধিদের সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সীমা কোথায়, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ছাত্র সংসদের ভূমিকা কার্যকর রাখতে হলে একই সঙ্গে তার দায়িত্ব ও এখতিয়ারও স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আম্মারের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়েও সময়ে সময়ে বিতর্ক হয়েছে। গত মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের এক নারী নেত্রী পাকিস্তানের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর সেখানে আম্মারের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়। মন্তব্যটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে খুলনার কয়রা উপজেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঝাড়ু মিছিলের মতো কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।
গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই ৩৬ : মুক্তির উৎসব’ নামে একটি কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ আয়োজনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ৭৬ লাখ টাকা অনুদান চেয়ে চিঠি পাঠানোর অভিযোগ ওঠে আম্মারের বিরুদ্ধে। পরে অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের কথা বলেছিলেন।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সেই হিসাব এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। আম্মার অবশ্য ৭৬ লাখ টাকা সংগ্রহের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, ওই পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়নি; প্রকৃতপক্ষে মাত্র আড়াই লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
ফলে এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, মোট কত টাকা অনুদান চাওয়া হয়েছিল, কত টাকা বাস্তবে পাওয়া গেছে এবং সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে। আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
গত মার্চে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের বিদায় উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যেও নিজের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টানেন আম্মার। তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন সময়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও চাপ সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে।
তার এই বক্তব্যকে অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে আন্দোলন ও প্রশাসনের মধ্যে মতবিরোধ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি কিংবা সহিংসতায় রূপ না নেয়—এমন মতও রয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
সোমবারের ঘটনাটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় একজন শিক্ষার্থীকে নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করে আম্মার ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী হামলা চালান। পরে আরও দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
ঘটনার ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, কোনো শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থাকলেও তাকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়াই সঠিক পথ। হামলা কিংবা গণপিটুনি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী মারুফ অভিযোগ করেছেন, আম্মারকে ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও ‘মব’ তৈরির মতো ঘটনা ঘটলেও কার্যকর বিচার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফুয়াদ রাতুলও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই ছাত্ররাজনীতির অংশ হতে পারে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেছেন, পোষ্য কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রেললাইন অবরোধ পর্যন্ত তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই পরিচালিত হয়েছে। এসব ঘটনায় তার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
গ্রন্থাগারে মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে আম্মারের বক্তব্য, এর আগে রাকসু ভবনে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। তার দাবি, সর্বশেষ ঘটনাটি মূলত ওই হামলার প্রতিক্রিয়া।
এদিকে, আম্মারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সংগঠনটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অস্বীকার করেছে। শাখাটির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আম্মার শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তিনি সংগঠনটির প্যানেল থেকে রাকসু নির্বাচনে অংশ নিতেন। তাই আম্মারের কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠনটি নেবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, সোমবারের ঘটনা এবং এ ধরনের অন্যান্য ঘটনায় যারা জড়িত, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্বশেষ ঘটনাটি তদন্তে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তদন্ত শেষ হওয়ার পর এবার কি সত্যিই দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? কারণ, আম্মারকে ঘিরে অতীতের বিভিন্ন অভিযোগের ক্ষেত্রেও তদন্ত কমিটি গঠনের কথা শোনা গেছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, সেই তদন্তগুলোর ফলাফল কিংবা সুস্পষ্ট শাস্তিমূলক পদক্ষেপ জনসমক্ষে দৃশ্যমান হয়নি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে ঘিরে ধারাবাহিকভাবে এমন অভিযোগ ওঠা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। একজন ছাত্রনেতার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, তাদের সমস্যার কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে শক্তিশালী করা। আন্দোলন, প্রতিবাদ কিংবা রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকারও শিক্ষার্থীদের রয়েছে।
কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগের নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রশাসনিক কাজে বেআইনি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি যে পক্ষেরই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারও হতে হবে প্রমাণের ভিত্তিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধিবিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া গেলে শুধু সাম্প্রতিক ঘটনারই নিষ্পত্তি হবে না, ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতিও ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
মন্তব্য