জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১১:৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় গোপন খবরের ভিত্তিতে চালানো এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের হরিণা এলাকায় অবস্থিত আসামির নিজ গরুর খামারে এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে চার কেজি গাঁজা, যার বড় একটি চালান বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। অভিযানকালে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
আটক হওয়া ব্যক্তির নাম মো. ফয়সাল মিয়া (৩০)। তিনি রূপগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সায়েদ আলী মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি স্থানীয় পুলিশ ও চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় মাদকের নেটওয়ার্ক বজায় রেখেছিলেন বলে খবর রয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের হরিণা ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ফয়সালের খামারটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের লেনদেন চলছিল—এমন গোপন তথ্য আসে পুলিশের কাছে। এরপর রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দক্ষ দল তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। তল্লাশির একপর্যায়ে খামারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলের পেছনে কৌশলে বাঁধাই করা সিমেন্টের বস্তার দিকে নজর যায় কর্মকর্তাদের। বস্তাটি খুলে পলিথিনে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে মোড়ানো অবস্থায় চার কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খামার মালিক ফয়সালকে মোটরসাইকেলসহ তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জব্দ করা মাদক ও বাইক রূপগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। অভিযুক্ত ফয়সাল মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রূপগঞ্জের সীমান্ত ও ভেতরের বেশ কিছু পয়েন্টে মাদকের আনাগোনা বাড়ায় তরুণ সমাজ হুমকির মুখে পড়ছিল। এ অবস্থায় পুলিশের এমন দ্রুত পদক্ষেপ ও সফল অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
চলমান পরিস্থিতি এবং মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল রয়েছে। আটক আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রূপগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে এবং মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থার মূল শেকড় উপড়ে ফেলতে আমাদের নিয়মিত ও ঝটিকা অভিযান জোরদার থাকবে।”
মন্তব্য