ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল সভায় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন। দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক গণমাধ্যমের কাছে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও সম্পাদকমণ্ডলীর বেশ কয়েকজন নেতা ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনলাইনে এই সভায় যুক্ত হন। বিশেষ বিষয় হলো, বর্তমানে যারা সরাসরি কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেই কিন্তু আগামী দিনে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন কিছু মুখও দিল্লির এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান এবং তখন থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। দেশের বাইরে থেকেও দলের কার্যক্রম সচল রাখতে এবং নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতে এই ধরনের গোপন বা অনলাইন বৈঠকগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল দলের পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা। বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আইনগত লড়াই ও মুখোমুখি হওয়ার যে ইচ্ছা ইতিপূর্বে শেখ হাসিনা প্রকাশ করেছিলেন, সেই পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নেতারা বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রতিও দলীয়ভাবে একাত্মতা প্রকাশ করা হয় এই বৈঠকে।
এ ছাড়া সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন তিন ব্যক্তিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নামগুলো পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করায়, এই ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় কোন্দল সামাল দেওয়া এবং নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল নিয়ে কাজ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।









