জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আর্থিক পরিধি দিন দিন যেন আকাশ ছুঁচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্বে আইপিএল মানেই বিপুল অর্থ এবং কোটিপতি হওয়ার নিশ্চিত সুযোগ। বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলার জগতে আইপিএল ইতোমধ্যেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে তৃতীয় সর্বোচ্চ মূল্যবান আসর হিসেবে। প্রতি বছরের মতো এবারও টুর্নামেন্টটির ব্র্যান্ড ভ্যালু বা বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক আর্থিক হিসাব ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর আইপিএলের সার্বিক ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে ১১.৪ শতাংশ।
তবে এবারের বাজারমূল্যের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি)। ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) পেছনে ফেলে তারা উঠে এসেছে তালিকার একেবারে শীর্ষস্থানে। বহু বছরের খরা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি ছোঁয়া বিরাট কোহলিদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সঞ্জীবনী হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে আরসিবির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২,৯৮৪ কোটি টাকা।
ব্র্যান্ড ভ্যালুর বিচারে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। তবে শীর্ষস্থান হারালেও রোহিত শর্মা, জশপ্রীত বুমরাহ, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও সূর্যকুমার যাদবের মতো জাতীয় দলের মহাতারকারা থাকায় বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে মুম্বাইয়ের চাহিদা এখনও তুঙ্গে। বর্তমানে মুম্বাইয়ের বাজারমূল্য ২৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২,৫২৪ কোটি টাকা। গত এক বছরে রোহিতদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে ৯.১ শতাংশ।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে তিনবারের আইপিএল জয়ী কলকাতা নাইট রাইডার্স। কেকেআরের ব্র্যান্ড ভ্যালুর সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি তাদের বিশ্বখ্যাত মালিক শাহরুখ খান। এছাড়া কলকাতার বিশাল ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকগোষ্ঠীর কারণে বিপণনে বড় সুবিধা পায় দলটি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষ কোনো মহাতারকা না থাকায় শীর্ষে ওঠা সম্ভব হয়নি তাদের। বর্তমানে নাইটদের বাজারমূল্য প্রায় ২,৩৪৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, তালিকার চার নম্বরে নেমে এসেছে একসময়ের শীর্ষ দল চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে)। মহেন্দ্র সিং ধোনি ছাড়া দলে দীর্ঘমেয়াদি বড় তারকার ঘাটতি এবং নতুন খেলোয়াড়দের ব্র্যান্ডিং তৈরি না হওয়ায় তাদের সূচক কিছুটা ধীরগতির। সম্প্রতি সঞ্জু স্যামসন দলে যোগ দিলেও সিএসকের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে মাত্র ৩.৪ শতাংশ। বর্তমানে তাদের বাজারমূল্য ২৪৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২,৩৩৪ কোটি টাকা।
প্রথম চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজির পর বাকি দলগুলোর আর্থিক অবস্থান কিছুটা ব্যবধানে নিচে অবস্থান করছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১,৬০৭ কোটি টাকা বাজারমূল্য নিয়ে রয়েছে পঞ্চম স্থানে। তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীদের অন্তর্ভুক্তিতে রাজস্থান রয়্যালস ১,৫৪০ কোটি টাকা নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। প্রীতি জিন্টার মালিকানাধীন পাঞ্জাব কিংস কোনো শিরোপা না জিতলেও জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে ১,৫১১ কোটি টাকা ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে রয়েছে সপ্তম স্থানে। শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন গুজরাট টাইটান্স মাত্র চার মৌসুম খেলেই ১,৫০২ কোটি টাকার বাজারমূল্য তৈরি করে আট নম্বরে রয়েছে। দিল্লির ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ক্যাপিটালস ১,৪৯২ কোটি টাকা নিয়ে নবম এবং সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মালিকানাধীন লখনউ সুপার জায়ান্টস ১,১৬৭ কোটি টাকা ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে তালিকার সর্বনিম্নে দশম স্থানে রয়েছে।
| ক্রম | ফ্র্যাঞ্চাইজি দল | অধিনায়ক / প্রধান মুখ | ব্র্যান্ড ভ্যালু (টাকায়) | ব্র্যান্ড ভ্যালু (ডলারে) |
| ১ | রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু | বিরাট কোহলি | ২,৯৮৪ কোটি টাকা | ২৬৯ মিলিয়ন ডলার |
| ২ | মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স | হার্দিক পাণ্ডিয়া / রোহিত শর্মা | ২,৫২৪ কোটি টাকা | ২৬৪ মিলিয়ন ডলার |
| ৩ | কলকাতা নাইট রাইডার্স | শাহরুখ খান (মালিক) | ২,৩৪৩ কোটি টাকা | – |
| ৪ | চেন্নাই সুপার কিংস | মহেন্দ্র সিং ধোনি | ২,৩৩৪ কোটি টাকা | ২৪৪ মিলিয়ন ডলার |
| ৫ | সানরাইজার্স হায়দরাবাদ | কাব্য মারান (মালিক) | ১,৬০৭ কোটি টাকা | – |
| ৬ | রাজস্থান রয়্যালস | বৈভব সূর্যবংশী | ১,৫৪০ কোটি টাকা | – |
| ৭ | পাঞ্জাব কিংস | প্রীতি জিন্টা (মালিক) | ১,৫১১ কোটি টাকা | – |
| ৮ | গুজরাট টাইটান্স | শুভমান গিল | ১,৫০২ কোটি টাকা | – |
| ৯ | দিল্লি ক্যাপিটালস | কেএল রাহুল / অক্ষর প্যাটেল | ১,৪৯২ কোটি টাকা | – |
| ১০ | লখনউ সুপার জায়ান্টস | সঞ্জীব গোয়েঙ্কা (মালিক) | ১,১৬৭ কোটি টাকা | – |
মন্তব্য