জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ১:৫৭ পিএম

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের সাথে সশস্ত্র চোরাকারবারীদের এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সীমানা সংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিজিবি সদস্যরা চোরাকারবারীদের ধাওয়া করে ৪টি পিস্তল ও ১৪ রাউন্ড তাজা গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে রাতের আঁধারে সংঘটিত এই ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় উভয় পক্ষের কেউ হতাহত হননি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিজিবির যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের সিংহপাড়া গ্রামের পার্শ্ববর্তী ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় ২৩ বিজিবির একটি ক্ষিপ্র ও চৌকস টহলদল বিশেষ অভিযান চালায়। সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত সতর্কতার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ২৩ বিজিবির যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খালিদ ইবনে হোসেন জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে একদল সশস্ত্র অপরাধী বা চোরাকারবারী অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও চোরাচালানের মালামাল নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে—এমন সুনির্দিষ্ট ও গোপন খবরের ভিত্তিতে বিজিবির বিশেষ দলটি সীমান্তে অবস্থান নেয়। বিজিবি টহলদলের কৌশলগত উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা মালামাল ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করা হয়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশীয় তৈরি পিস্তল, ১৪ রাউন্ড তাজা গুলি এবং বেশ কিছু আনুষঙ্গিক সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেন।
অভিযান শেষ করে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সাথে নিয়ে নিকটস্থ বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) ফিরে আসার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র চোরাকারবারী দলটি পাহাড়ি ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে বিজিবি টহলদলকে লক্ষ্য করে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবি সদস্যরাও দ্রুত অবস্থান নিয়ে নিজেদের রক্ষায় পাল্টা গুলি চালান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট তীব্র থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। একপর্যায়ে বিজিবির জোরালো প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে চোরাকারবারীরা মালামাল নািয়েই পাহাড় ও গহীন জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে আত্মগোপন করে।
বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক জানান, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যে কোনো ধরণের সীমান্ত অপরাধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদকের চালান রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অপরাধীদের সম্ভাব্য সকল রুট ও আস্তানা চিহ্নিত করে সর্বাত্মক নজরদারি, বাড়তি টহল এবং বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধারকৃত সব ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কাজ চলছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মন্তব্য