জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ২:৫৩ পিএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় একটি স্থানীয় বাজারের নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বহু বছরের জমে থাকা ক্ষোভ ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষে এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। থমথমে পরিস্থিতির কারণে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বিচ্ছিন্ন থাকে।
স্থানীয় অধিবাসী ও দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের উভয় পাশে একটি বাজার অবস্থিত। এই বাজারের সঠিক সীমানা চিহ্নিতকরণ এবং নামকরণ নিয়ে সংলগ্ন আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে প্রায় তিন দশক ধরে মনস্তাত্ত্বিক ও সীমানাকেন্দ্রিক বিরোধ চলছিল। আকবরনগরের বাসিন্দারা বাজারটি নিজেদের নামে করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা মানতে নারাজ ছিলেন মিরারচরের অধিবাসীরা।
গত কয়েক দিন ধরে এই নামকরণ নিয়ে উভয় গ্রামের মধ্যে নতুন করে তীব্র সামাজিক উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। বেশ কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘাতের জড়িয়ে পড়ে। সকালে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ পুরো এলাকাকে এক ধ্বংসাত্মক রণক্ষেত্রে পরিণত করে।
নিহতের পরিচয়:
এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন মাসুদ মিয়া (৩০)। তিনি মিরারচর গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে। পেশায় অটোরিকশাচালক মাসুদ সংঘাতের মাঝে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। ঘটনার স্থানে ও আশপাশে রক্তাত্ত অবস্থায় ছড়িয়ে থাকা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি: আহত অন্তত ২০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকায় প্রেরণ: কয়েকজন ভুক্তভোগীর আঘাত অতিমাত্রায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ থমকে যায়, ফলে দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয় পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সংবাদের খবর পেয়েই ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, পুলিশ দ্রুত স্থানটিতে পৌঁছে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করে। নিহত মাসুদ মিয়ার সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত নিশ্চিত করতে নিহতের লাশ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও পুনরায় সহিংসতা ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আঞ্চলিক সড়কের যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে এবং উক্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
মন্তব্য