জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ২:৪৭ পিএম

নেত্রকোনার সদর উপজেলায় নিজ বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় মাহফুল মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে রোববার (২৬ জুলাই) ভোরের মধ্যে কোনো একসময় উপজেলার দুআনী দুধকুড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মাহফুল মিয়া ওই গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কাছে তিনি ওই এলাকায় বসবাস করতেন। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি একাই নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে খাবার খেয়ে মাহফুল নিজের ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তার ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে কোনো একসময় ঘটনাটি ঘটে।
ভোরে মাহফুলের মা ঘুম থেকে উঠে ছেলের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হলে তিনি টর্চের আলো জ্বালিয়ে ঘরের ভেতরে তাকান। এ সময় ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে—এমন বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়াসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাহফুলের স্ত্রী প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে বাবার বাড়িতে চলে যান। তার দুই মেয়ে বর্তমানে দাদির সঙ্গে বসবাস করছে। তবে পারিবারিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, জমিজমা নিয়ে মাহফুলের সঙ্গে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। পুলিশও প্রাথমিকভাবে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে হত্যার সম্ভাব্য একটি কারণ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে এটিকে হত্যার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজন মাহফুলের নিয়মিত জুয়া খেলার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে এসব কথিত বিষয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে হত্যার মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমিজমা নিয়ে বিরোধসহ সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য