খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম

মার্কিন প্রশাসনের একতরফা রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করে কোনো চুক্তিতে সই করবে না ইরান। ওয়াশিংটন কৌশলগত চাপ প্রয়োগ করে নিজস্ব শর্তে চুক্তি চাপিয়ে দিতে চাইলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যেই দুই পরাশক্তির মধ্যে গভীর মতপার্থক্য ও মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার অন্তরালে আলোচনা চললেও ইরান এই মুহূর্তে কোনো শর্তে চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়। তবে একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলা হলেও অন্যদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সড়ক, রেলপথ ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষ ৬০ দিনের এক যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতায় সম্মত হয়েছিল। তবে কয়েক দিন যেতে না যেতেই সেই চুক্তি ভেঙে ইরানে সামরিক অভিযান জোরালো করে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক কৌশলের মাঝে বড় অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে চীন ও রাশিয়ার অবস্থানকে। তেহরানের দীর্ঘদিনের দুই ভূরাজনৈতিক মিত্র প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংকটে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান এই সংঘাতে বেইজিং ও মস্কো ইরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দেবে না। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে চীন কোনো অবস্থাতেই ইরানকে নতুন করে অস্ত্র দেবে না বা বিক্রি করবে না। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্কতা জারি করে বলেন, চীন বা রাশিয়া যদি সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা তাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পরিণতি বয়ে আনবে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন, যেখানে ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা বহুগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও যুদ্ধবিরতির আগের সব চুক্তি ও সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে আলোচনার পথ খোলা রাখা হলেও যেকোনো সময় ইতিহাসের বৃহত্তম সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী।
পরিস্থিতির জটিলতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেও নতুন রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নিলে তাতে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নাও নিতে পারে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। এই সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, মার্কিন বিমান হামলা ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ছাড়িয়ে এখন রাজধানী তেহরানের সংবেদনশীল কাছাকাছি এলাকাগুলোতেও বিস্তৃত হওয়ায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
মন্তব্য