খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২৭ করবর্ষের অনলাইন আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দাখিলের সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। একই সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রণোদনার সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা। নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দাখিল করলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না।
বুধবার, ২২ জুলাই, এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য নতুন করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, ২০২১ সালে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে করদাতাদের কর কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ করবর্ষে প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা অনলাইনে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন, যা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতারই ইঙ্গিত দেয়।
নতুন করবর্ষে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের গুরুত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে কিছু বিশেষ শ্রেণির করদাতাকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতারা কাগজে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। একই সুবিধা পাবেন শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতারা, তবে তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সনদপত্র দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরাও কাগজে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় নিবন্ধনসংক্রান্ত কোনো সমস্যার কারণে কোনো করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত কর কমিশনার বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই করদাতা কাগজে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
অনলাইন ব্যবস্থার আরেকটি সুবিধা হলো, করদাতারা ঘরে বসেই তাঁদের কর পরিশোধ করতে পারবেন। ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। এর ফলে কর প্রদান প্রক্রিয়ায় সরাসরি কর কার্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।
সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর করদাতারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র এবং আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। করদাতাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা, কারণ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে আয়কর সনদ বা রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
এবারের করবর্ষে সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে করদাতাদের উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যাবে। তবে এই সুবিধার সর্বোচ্চ পরিমাণ ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া করদাতারা করের হিসাব অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে এই সুবিধা পাবেন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই প্রণোদনার পরিমাণ ২৫ হাজার টাকার বেশি হবে না।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে ৫ শতাংশ প্রণোদনা আর প্রযোজ্য হবে না। ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত করের দায় তৈরি হবে বলেও জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ফলে করদাতাদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া আর্থিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।
ই-রিটার্ন দাখিলের সময় কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে করদাতাদের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কল সেন্টারে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যাবে। ইলেকট্রনিক অন্যান্য মাধ্যমেও করদাতাদের সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
কর ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল ও নাগরিকবান্ধব করার ক্ষেত্রে অনলাইন রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঘরে বসে রিটার্ন জমা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর পরিশোধ এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহের সুবিধা থাকায় করদাতাদের সময় ও ভোগান্তি কমার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর প্রশাসনে তথ্যের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাও আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে করদাতাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তাঁদের করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণ করা উচিত। পাশাপাশি সময়মতো রিটার্ন জমা দিলে একদিকে যেমন ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ থাকবে, অন্যদিকে দেরিতে রিটার্ন দাখিলের কারণে অতিরিক্ত করের সম্ভাব্য চাপও এড়ানো যাবে।
মন্তব্য