খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫০ পিএম

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতাকেই দেখছেন দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। তাঁর মতে, স্বাগতিক দলের পেসারদের বাড়তি বাউন্স এবং ভিন্ন কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। তবে সফরের ভুল ও অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে সামনে এগোতে পারলে এই সফরই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পূর্ণাঙ্গ এই সফরে দুই দলই তিন সংস্করণের ক্রিকেটে মুখোমুখি হয়েছে। শুরুতেই একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। এরপর ওয়ানডে সিরিজেও স্বাগতিকদের কাছে হারতে হয় সফরকারীদের। ফলে একই সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজে অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। সিরিজের শেষ ম্যাচে নাটকীয় লড়াইয়ের পর চার উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এর ফলে একই সফরে তিন সংস্করণেই হারের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পায় দল। টি-টোয়েন্টিতে জয় দিয়ে সফর শেষ করলেও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল না।
পুরো সফরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানই সেঞ্চুরির দেখা পাননি। জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমণের সামনে বেশ কয়েকবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে হয়েছে দলকে। টেস্ট থেকে ওয়ানডে, আবার ওয়ানডে থেকে টি-টোয়েন্টি—খেলার ধরন ও ম্যাচের দৈর্ঘ্য বদলালেও ব্যাটিংয়ের মূল সমস্যাগুলো পুরোপুরি দূর হয়নি। বিশেষ করে বাড়তি বাউন্সের বল সামলানো, শরীরের কাছাকাছি আসা ডেলিভারিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নতুন কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে।
দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আশরাফুল বলেন, জিম্বাবুয়ের উইকেটে পাওয়া অতিরিক্ত বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কিছুটা সময় লেগেছে। তাঁর মতে, টেস্ট ম্যাচে দল পরিস্থিতির সঙ্গে যথেষ্ট দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেনি। তবে সিরিজ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে এসে কন্ডিশনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছিল বাংলাদেশ।
আশরাফুলের এই ব্যাখ্যায় বাংলাদেশের বিদেশের মাটিতে খেলার একটি পুরোনো চ্যালেঞ্জও উঠে এসেছে। দেশের কন্ডিশনে সাফল্য পাওয়ার পর ভিন্ন পরিবেশে গিয়ে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সব সময় সহজ নয়। পিচের গতি, বাউন্সের উচ্চতা, বলের আচরণ এবং প্রতিপক্ষের বোলিং পরিকল্পনা—সবকিছুই বদলে যেতে পারে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে টেকনিক্যাল ভুলের পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
জিম্বাবুয়ে সফরের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলে এই মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে পারত বলে মনে করেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তারের কারণে সফরকারী দলগুলো এখন অনেক সময় মূল সিরিজ শুরুর আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় না।
আগে বিদেশ সফরে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ কিংবা একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার প্রচলন ছিল। এতে খেলোয়াড়েরা স্থানীয় উইকেটের আচরণ বুঝে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের কৌশল ও পরিকল্পনা যাচাই করার সুযোগ পেতেন। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা পিচের বাউন্স ও গতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতেন। এখন সেই সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক দলকে নতুন পরিবেশে পৌঁছেই সরাসরি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামতে হচ্ছে। আশরাফুলের মতে, জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মানিয়ে নিতে যে বাড়তি সময় লেগেছে, প্রস্তুতি ম্যাচ থাকলে সেটি কিছুটা কমানো সম্ভব হতো।
এই সফরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আশরাফুল। সামনে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ। বড় কোনো টুর্নামেন্টে ভালো করতে হলে শুধু নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে পারফর্ম করাই যথেষ্ট নয়। ভিন্ন দেশের উইকেট ও আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের যে সমস্যাগুলো প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো এখন থেকেই চিহ্নিত করে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
তবে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়া সফরে। আগস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাবে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামবে দলটি। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য অপেক্ষা করছে দ্রুতগতির পেস বোলিং ও বাড়তি বাউন্সের কঠিন চ্যালেঞ্জ। জিম্বাবুয়ের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন আরও কঠিন হতে পারে—এমন বাস্তবতায় সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো বাংলাদেশের জন্য জরুরি।
আশরাফুলের বিশ্বাস, জিম্বাবুয়ে সফরের শিক্ষা অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, গত সাত মাস ধরে দেশের মাটিতে ভালো ক্রিকেট খেললেও ভিন্ন কন্ডিশনে গিয়ে বাংলাদেশের কিছুটা সময় লেগেছে মানিয়ে নিতে। এই বাস্তবতা ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটের জন্য তাই জিম্বাবুয়ে সফরকে শুধু ব্যর্থতার গল্প হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এই সফরে যে দুর্বলতাগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো সংশোধনের সুযোগ হিসেবেও দেখতে হবে। বিশেষ করে বাড়তি বাউন্স ও গতির বল মোকাবিলা, পেসারদের বিপক্ষে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করা এবং অপরিচিত কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ।
জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাটিংয়ের যে ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তা আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। তাই আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতিতে এই বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আশরাফুলের আশা, জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞতা থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় আরও ভালোভাবে
মন্তব্য