খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম

২০৩০ সালের বিশ্বকাপের শতবর্ষী আসরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা ধরনের পরিকল্পনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশেষ আসরে ৬৪টি দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে বলে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে খবর ছড়িয়েছে। তবে এমন পরিকল্পনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন স্প্যানিশ শীর্ষ ফুটবল লিগ লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। তাঁর মতে, বিশ্বকাপকে আরও বড় করার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতালির ক্রীড়া দৈনিক লা গাজ্জেত্তা দেল্লো স্পোর্তে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেবাস ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও সরাসরি সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে ফুটবলের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সূচির ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে গভীর অসন্তোষের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তেবাস বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর দাবি, এই নেতৃত্ব যে ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেই ব্যবস্থার মধ্যেই বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের সময়কালও শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তবে তেবাসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিশ্বকাপের আকার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ঘিরে। তাঁর মতে, ফুটবলের বিশ্বায়নের নামে যদি একের পর এক নতুন প্রতিযোগিতা ও ম্যাচের চাপ তৈরি করা হয়, তাহলে এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা গিয়ে পড়বে ঘরোয়া লিগগুলোর ওপর। ক্লাব ফুটবলের নিয়মিত সূচি, খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তেবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। কিন্তু ফুটবলের পুরো অর্থনীতি ও কাঠামোকে কেবল একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সাফল্যের ভিত্তিতে বিবেচনা করা ঠিক নয়। বিশ্বকাপের বাইরে সারা বছর ধরে চলা ঘরোয়া লিগ, ক্লাব প্রতিযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের ওপরও বিশ্ব ফুটবল শিল্পের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, প্রায় ৪০ দিনের একটি টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে পুরো ফুটবল শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বিপন্ন করা উচিত নয়। তাঁর যুক্তি, ফুটবল শিল্প বিশ্বের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অথচ একটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তুলনামূলকভাবে সীমিত সংখ্যক খেলোয়াড়। ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলের স্বার্থও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তেবাসের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যালেন্ডার নিয়ে ক্লাব ও লিগগুলোর উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ, বিশ্রামের স্বল্পতা এবং চোটের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ এর আগেও প্রশ্ন তুলেছে। ফলে ২০৩০ সালের শতবর্ষী বিশ্বকাপকে ৬৪ দলের আসরে পরিণত করার সম্ভাব্য আলোচনা নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।
তেবাসের সমালোচনার মূল বক্তব্য হলো, বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন শুধু দল বাড়ানো বা ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায় না। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকর্ষণ ধরে রাখার পাশাপাশি ঘরোয়া লিগগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য এবং ক্লাবগুলোর স্বার্থও বিবেচনায় রাখা জরুরি। তাঁর মতে, এসব বিষয় উপেক্ষা করে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা শেষ পর্যন্ত ফুটবলের সামগ্রিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য