খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ১২:২ এএম

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীপ্রবণ বেলুচিস্তান প্রদেশের খুজদার অঞ্চলে এক ভয়াবহ ও সমন্বিত হামলা চালিয়ে ১৯ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্যকে হত্যার দাবি করেছে সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। গত ১০ জুলাই সংঘটিত এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বিষয়ে সোমবার (২০ জুলাই) এক বিশেষ বিবৃতির মাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশ করে সংগঠনটি। অভিযানে নিজেদের ৬ জন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে বিএলএ।
আঞ্চলিক সংবাদভিত্তিক মাধ্যম ‘বেলুচিস্তান পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বিএলএ-এর মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ১০ জুলাই সকাল ৬টা নাগাদ খুজদার এলাকায় এই সুপরিকল্পিত হামলাটি শুরু হয়। বিএলএ যোদ্ধারা অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে স্থানীয় থানা ও একাধিক সরকারি প্রশাসনিক ভবন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় সরকারি অস্ত্রাগার থেকে প্রচুর সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ লুট করার পর শক্তিশালী বিস্ফোরকের সাহায্যে থানা ভবনটি উড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক স্থাপনা দখলের খবর পেয়ে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে পুরো শহরটি ঘিরে ফেলার প্রয়াস চালায়। এ সময় সোরগাজ এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশের (ডিএসপি) বহরকে লক্ষ্য করে চোরাগোপ্তা হামলা চালালে বাহিনীটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে স্থলভাগে সাঁজোয়া যান (এপিসি) এবং আকাশপথে গানশিপ হেলিকপ্টারের সহায়তা নিয়ে সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে টানা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় তীব্র সম্মুখযুদ্ধ হয়। বিএলএ-এর দাবি, এই মুখোমুখি লড়াইতে ১৫ জনেরও বেশি সেনাসদস্য নিহত ও বহু সদস্য গুরুতর আহত হন। এছাড়া বিএলএ-এর ভারী অস্ত্রের গোলায় সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া যান পুরোপুরি ধ্বংস হয় এবং একটি হেলিকপ্টার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একই দিন সন্ধ্যায় মূল মহাসড়ক ধরে সেনা পুনর্গঠনের জন্য আসা অপর একটি সামরিক কনভয়ে পুনরায় হামলা চালায় বিএলএ। এই হামলায় সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি সরাসরি গোলার আঘাতে ধ্বংস হলে আরও ৪ জন সেনাসদস্য মারা যান।
সুদীর্ঘ এই সংঘর্ষে বিএলএ তাদের ৬ জন যোদ্ধার আত্মাহুতির কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের এই বলিদান স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠনের সশস্ত্র সংগ্রামকে আরও সুসংগঠিত ও বেগবান করবে।
মন্তব্য