খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম

রাজধানীর জননিরাপত্তা রক্ষা এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ করতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা জোরদার কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত এই বিশেষ পদক্ষেপে পেশাদার অপরাধী, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী, পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ও অনিয়মে জড়িত মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। সেই সঙ্গে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আইনি প্রক্রিয়া মেনে এক শিশুকে পুলিশি সতর্কতামূলক হেফাজতে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশেষ অভিযানের তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশের হালনাগাদ তথ্যানুসারে, তেজগাঁও জোনের অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি থানা—মোহাম্মদপুর, হাতিরঝিল, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর ও আদাবরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই সমন্বিত অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করা হয়। নগরীর ক্রমবর্ধমান অপরাধ রুখতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি তৎপরতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল ও থানাওয়ারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জনবহুল ও বিস্তৃত অঞ্চল হওয়ায় মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে বকেয়া পরোয়ানা ও নানা অপরাধমূলক অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিরঝিল থানা থেকে ১২ জন এবং শিল্প এলাকাভিত্তিক তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা থেকে ১০ জনকে ধরা সম্ভব হয়।
একই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কাজের কেন্দ্রবিন্দু তেজগাঁও থানা থেকে ৯ জন এবং শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ৯ জনসহ মোট ১৮ জনকে আইনের জালে বন্দি করা হয়। এর পাশাপাশি আদাবর থানা এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৭ জন অভিযুক্তকে।
অভিযানে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের পাশাপাশি আইনের মুখোমুখি হওয়া বা বিভ্রান্তিতে পড়া এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা মেনে নিজস্ব হেফাজতে রাখা হয়েছে, যাতে তাকে ইতিবাচক ধারায় ফেরানো সম্ভব হয়।
ডিএমপি জানায়, সাধারণ নগরবাসীর চলাফেরা নিরাপদ রাখা এবং অলিগলির অপরাধ চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল করাই পুলিশি প্রশাসনিক এই তৎপরতার প্রধান উদ্দেশ্য। পরোয়ানা তামিল ও অপরাধী ধরার এমন বিশেষ পদক্ষেপ তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন এলাকায় নিয়মিত চলবে বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্তব্য