খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার কক্ষ থেকে জান্নাতুল ফেরদাউস (১১) নামে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার কাসেমাবাদ এলাকার মিফতাহুল জান্নাহ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদ্রাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত জান্নাতুল ফেরদাউস নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নালুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রবাসী মো. সান্টুর মেয়ে। সে মায়ের সঙ্গে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামে তার নানার বাড়িতে থাকত। পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য সে ওই মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হয়েছিল।
পুলিশ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর মাদ্রাসার একটি কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান কয়েকজন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় ধরে দরজা বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষটির জানালার কাচ দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে জান্নাতুলকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। বিষয়টি দেখে তারা চিৎকার শুরু করলে মাদ্রাসার শিক্ষক ও আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসেন।
পরে কক্ষটির দরজা ভেঙে জান্নাতুলকে নিচে নামানো হয়। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদ্রাসার পরিচালক মো. আবু ইউসুফ খন্দকার জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫ জন ছাত্রী আবাসিকভাবে থেকে পড়াশোনা করছে। ঘটনার সময় মাদ্রাসায় দুইজন নারী শিক্ষক দায়িত্বে ছিলেন। তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে জান্নাতুলের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, কক্ষটি কীভাবে বন্ধ ছিল এবং মৃত্যুর আগে ওই ছাত্রীর সঙ্গে কারও কোনো যোগাযোগ বা বিরোধ হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, সহপাঠী ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য