খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার (২০ জুলাই) রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক আহ্বানের পর তিনি নতুন সরকার গঠন করেন। এর মাধ্যমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টার্মারের অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল এবং এক দশকেরও কম সময়ে যুক্তরাজ্য পেল তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নিরঙ্কুশ বিজয় এনে দেওয়ার প্রায় দুই বছর পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়েন কিয়ার স্টার্মার। দলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন দেশটি অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বার্নহ্যাম স্থানীয় সরকার ও জাতীয় রাজনীতি—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আঞ্চলিক উন্নয়ন, গণপরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের কারণে রাজনৈতিক মহলে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামেও পরিচিতি পান। এর আগে লেবার সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাকে জাতীয় নেতৃত্বের জন্য অভিজ্ঞ প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বার্নহ্যামের সামনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা তার অন্যতম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ট্রাম্প তাকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ রয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য সহজ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। একদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি রিফর্ম ইউকে সমর্থন বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও সামাজিক নীতিকে সামনে রেখে গ্রিন পার্টি প্রগতিশীল ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণ আগের তুলনায় আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোও নতুন সরকারের জন্য অগ্রাধিকার পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, সরকারি সেবার কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারলেই বার্নহ্যাম সরকারের প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হতে পারে।
বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং কিয়ার স্টার্মারের পর যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে আসা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সামনে তাই শুধু সরকার পরিচালনার দায়িত্বই নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্লান্ত ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারলে তিনি তার পূর্বসূরিদের তুলনায় দীর্ঘ সময় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেতে পারেন।
মন্তব্য