খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম

টানা ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এসব স্থানে প্রয়োজন হলে মোবাইল হাসপাতাল ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে পটিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙন, পাহাড়সংলগ্ন বসতিতে মাটিধস এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্কুল ও কলেজগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা, খাদ্য সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে এমন এলাকার পরিবারগুলোকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশুদের খাবার এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা, নিচু ভূমি এবং পাহাড়ের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ অতিবৃষ্টির সময় এসব এলাকায় পানি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং হঠাৎ করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন কিংবা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব এলাকার মানুষকে আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্র, মোবাইল হাসপাতাল এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেউ যেন ঝুঁকি নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান না করেন, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। কোথাও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হবে। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
এদিকে, পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যাওয়া, কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কৃষিজমিতে পানি প্রবেশের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দুর্যোগের আগে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার এই উদ্যোগ সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য