খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৫:১৩ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে তার কাছে দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয়েছে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময় কুমার সাহা এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার ফুয়াদের বক্তব্য দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সুনাম, সামাজিক মর্যাদা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতি অবমাননাকর আচরণের দায়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে শাস্তিমূলক ও দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক শ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রস্তাবিত এই অর্থ সরাসরি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিল’-এ জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশদাতার বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, বিচারিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান সুপ্রতিষ্ঠিত। ফলে এ ধরনের মন্তব্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক এবং বৃহত্তর একাডেমিক সম্প্রদায়ের অনুভূতিকেও আঘাত করতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনগত নোটিশ সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতের বাইরে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি, দাবি বা অভিযোগ উত্থাপনের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে বিষয়টি সামাজিক ও একাডেমিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সুনামকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত এই বিতর্কের পরবর্তী অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এখন পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। নোটিশের পর কোনো ব্যাখ্যা, ক্ষমা প্রার্থনা বা আইনি জবাব আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
মন্তব্য