খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ২:৪৪ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত দামের তুলনায় বেশি মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকেও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এ বিষয়ে দুটি পৃথক ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদনের পর বিষয়টি নিয়ে অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত এসব প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই উৎস থেকে গম আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫২ কোটি ৪০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের খাদ্যশস্যের মজুত স্বাভাবিক রাখা, খোলা বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যেই নিয়মিত গম আমদানি অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় ধারাবাহিকভাবে গম আমদানি করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে চারটি চালানে মোট প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি গম দেশে এসেছে। প্রথম চালানে আসে ৫৬ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন, দ্বিতীয় চালানে ৬০ হাজার ৮০২ মেট্রিক টন, তৃতীয় চালানে ৬০ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন এবং চতুর্থ চালানে ৬০ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন গম। চলতি বছরও একই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও কয়েক দফায় গম আমদানি করা হয়েছে।
সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুধু জি-টু-জি চুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেও নিয়মিত গম সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, আর্জেন্টিনা ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গম কেনা হয়। ক্রয়ের সময় আন্তর্জাতিক বাজারদর, গমের গুণগত মান, সরবরাহ সক্ষমতা, পরিবহন ব্যয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তবে সর্বশেষ অনুমোদিত প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কেনার মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে গমের মূল্য, জাহাজভাড়া, বীমা ব্যয়, চুক্তির ধরন, সরবরাহের সময়সীমা এবং অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয়ের কারণে একই সময়ে বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি করা গমের দামে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটের দামের সঙ্গে তুলনা করেই একটি চুক্তির সামগ্রিক ব্যয় মূল্যায়ন করা সব সময় যথেষ্ট নয়।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশের মত হলো, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে গম সংগ্রহের সুযোগ থাকে, তখন বেশি মূল্যে ক্রয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া, প্রতিযোগিতামূলক দর এবং চুক্তির শর্ত নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে চালের পাশাপাশি গমও অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য। রুটি, আটা, ময়দা ও সুজিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের কাঁচামাল হিসেবে গমের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। দেশীয় উৎপাদন দিয়ে মোট চাহিদা পূরণ সম্ভব না হওয়ায় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকারি ক্রয়নীতির প্রভাব দেশের খাদ্যবাজার ও ভোক্তা পর্যায়েও প্রতিফলিত হয়।
মন্তব্য