জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে

দেশে হামের প্রকোপ এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংস্থাটির নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এই পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। বাকি দুজনের একজন সিলেট বিভাগ এবং অন্যজন বরিশাল বিভাগের।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামের উপসর্গে মৃত্যুর পাশাপাশি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে এ পর্যন্ত আরও ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের সঙ্গে সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২৪ জনে। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

শুধু মৃত্যুই নয়, নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৯৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩ জন।

অন্যদিকে, পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫৪ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে চলতি প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে দেশে মোট নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২৮৬ জনে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৬ হাজার ৪১১ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮২ হাজার ৭৫৯ জন। অর্থাৎ অধিকাংশ রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হলেও নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের বার্তা বহন করছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণের বিস্তার এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর