খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার পর মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন গতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্বর্ণের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা শিথিল হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলেই টানা বাড়ছে স্বর্ণের মূল্য।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৪ দশমিক ৬৫ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের দিনই ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজার। একই সময় আগস্ট ডেলিভারির যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারসের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৭ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হওয়ায় দেশটির অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণে আগ্রহ বাড়াচ্ছেন।
জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ৯৮ হাজার। অথচ অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে। প্রত্যাশার চেয়ে কম কর্মসংস্থান সৃষ্টির তথ্য প্রকাশের পর সাত মাসেরও বেশি সময়ের নিম্নমুখী অবস্থান থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় স্বর্ণের বাজার। এতে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে স্বর্ণের চাহিদা সাধারণত বৃদ্ধি পায়।
এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, বাজারে এখন নিম্নমুখী অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক রয়েছেন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, দাম কিছুটা কমলেও খুব দ্রুতই তা পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ফলে অনেকেই বড় ধরনের দরপতনের প্রত্যাশা করছেন না।
এদিকে ফেড চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ ও ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনার নীতিগত অবস্থানে অটল রয়েছে। ফলে সামনের মাসগুলোতে অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর নির্ভর করেই সুদহার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের ব্যবহৃত সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ফেড সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাজারে প্রায় ৬৬ শতাংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সুদহার, মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের মতো অর্থনৈতিক সূচকগুলোর পরিবর্তন আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এসব সূচকের নতুন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণের দামে ওঠানামাও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
শুধু স্বর্ণ নয়, একই সময়ে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ০৩ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬১৪ দশমিক ৮০ ডলার হয়েছে। পাশাপাশি প্যালাডিয়ামের দামও ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৩৪ দশমিক ৮৯ ডলারে উঠেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ার প্রভাব শুধু স্বর্ণেই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে।
মন্তব্য