খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অন্তত ১০টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুরো বাজার এলাকায় রাতভর আতঙ্ক বিরাজ করে।
সোমবার (২৯ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ শুরু হলে দ্রুতই পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল ওরফে মারো সামাদের অনুসারীরা পূর্ব বিরোধের জের ধরে বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে মারধর করেন। এই ঘটনার পরই এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই পক্ষের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বাজার এলাকায় জড়ো হন।
প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং এক পর্যায়ে তা পূর্ণাঙ্গ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং দোকানপাটে হামলার ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিল্লাত সরকার মিলন এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা।
অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের অন্তত ১০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে অনেক দোকানদার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক এবং তাঁর পুত্র ডা. আবির হাসান দীপ। তারা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
জেলা বিএনপির নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে সংঘর্ষ, হামলা ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারোয়ারী আলম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য