খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৫:১৫ পিএম

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ৭২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের বুঁদ করে রেখে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নকআউট পর্বের অর্থাৎ শেষ ৩২-এর মাঠের লড়াই। গ্রুপ পর্বের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দলগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বেশ কিছু ফুটবলার একক নৈপুণ্যে নজর কেড়েছেন। ফুটবল মাঠের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করা বিখ্যাত প্ল্যাটফর্ম ‘ওপ্টা অ্যানালিস্ট’ (Opta Analyst) গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তাদের সেরা একাদশ বেছে নিয়েছে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হলান্ডের মতো চেনা মহাতারকাদের পাশাপাশি এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন চমক জাগানো ফুটবলার।
একাদশের গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলকিপার ভোজিনিয়া। স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই তিনি বাজিমাত করেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে দুটি গোল হজম করলেও পোস্টের নিচে তাঁর বিশ্বস্ত হাত দুটি দলকে ভরসা জুগিয়েছে। সৌদি আরবের বিপক্ষেও শেষ ম্যাচে দারুণ খেলেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে স্পেনের উনাই সিমন ছাড়া আর কোনো গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার চেয়ে বেশি ম্যাচে নিজের জাল অক্ষত রাখতে (ক্লিন শিট) পারেননি।
ডিফেন্সে রাইটব্যাক হিসেবে আছেন ঘানার মারভিন সেনায়া। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্সকে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ফুল ব্যাক পারফরম্যান্স বলা হচ্ছে। পুরো গ্রুপ পর্বে তিনি সবচেয়ে বেশি ১৮টি ট্যাকল করেছেন এবং ৩৮টি বল দখলের লড়াইয়ের (ডুয়েল) ২৪টিতেই জিতেছেন। ওয়ান-অন-ওয়ান ডিফেন্ডিংয়ের কার্যকারিতা মাপার ‘ট্রু ট্যাকলস’ পরিসংখ্যানে সেনায়ার সাফল্যের হার ৭২ শতাংশ।
সেন্টারব্যাকে কেপ ভার্দের রূপকথার নায়ক দিনেই বোর্হেস ৩১ বার বল ক্লিয়ার করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন। কমপক্ষে ২০টি ডুয়েলে জড়িয়েছেন এমন ডিফেন্ডারদের মধ্যে তিনি ৬৮ শতাংশ সাফল্য নিয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে। তাঁর সঙ্গী হিসেবে আছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সী তরুণ পাউ কুবারসি। সহজাত পজিশনিং জ্ঞানে অনন্য এই ডিফেন্ডার ২৯৪টি পাসের মধ্যে মাত্র ৫টি মিস করেছেন। আর লেফটব্যাকে আছেন জাপানের গতিময় তারকা কেইতো নাকামুরা। নেদারল্যান্ডস ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের প্রথম গোলগুলো এসেছে তাঁর পা থেকেই।
মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে ওপ্টার পছন্দ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টন ম্যাকেনি এবং ইকুয়েডরের পেদ্রো ভিতে। ম্যাকেনি একটু আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলে মার্কিন দলের আক্রমণে গতি এনেছেন। ওপেন প্লেতে তৈরি করা ৭টি গোলের সুযোগ তাঁকে টুর্নামেন্টের শীর্ষ মিডফিল্ডারদের কাতারে শামিল করেছে।
অন্যদিকে মেক্সিকান ক্লাব পুমাসের মিডফিল্ডার পেদ্রো ভিতে যেন ইকুয়েডর দলের ইঞ্জিন। ওপেন প্লে থেকে তিনি ৮টি সুযোগ তৈরি করেছেন, যা টুর্নামেন্টে পঞ্চম সর্বোচ্চ। এছাড়া ১৪টি ট্যাকল করে এই তালিকায় তিনে আছেন তিনি। প্রতিপক্ষের পা থেকে ২৩ বার বল কেড়ে নিয়ে গ্রানিত জাকা ও রদ্রিগো বেনতাঙ্কুরের ঠিক পরেই নিজের নাম লিখিয়েছেন এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার।
আক্রমণভাগের ডান প্রান্তে আছেন লিওনেল মেসি। চলতি আসরে ৩ ম্যাচে ৬ গোল করে তিনি এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা পারফরমার। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। বাঁ প্রান্তে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে নিজের চেনা বিধ্বংসী রূপ দেখিয়েছেন। ব্রাজিল এর আগে যে তিন আসরে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে গোল পেয়েছিল, প্রতিবারই তারা ট্রফি জিতেছিল; ফলে ভিনির এই ফর্ম সেলেসাওদের জন্য দারুণ এক সৌভাগ্যের লক্ষণ।
স্ট্রাইকার পজিশনে নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই ৪টি গোল করেছেন। টুর্নামেন্টে কমপক্ষে ৫টি শট নিয়েছেন—এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে শট গোলে রূপান্তরের ৪০ শতাংশ হার নিয়ে তিনি যৌথভাবে পাঁচ নম্বরে আছেন।
হলান্ডের সঙ্গী হিসেবে আছেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাকে ১৬-তে নিয়ে গিয়ে তিনি এখন মেসির ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন। নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উসমান দেম্বেলের দুটি গোলের উৎসও ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চ পেলেই এমবাপ্পে যেন আরও বেশি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন, ওপ্টার এই একাদশ তারই বড় প্রমাণ।
মন্তব্য