খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ২:৫৭ পিএম

ক্লাব ও জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির মাঝেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটির মুখোমুখি হয়েছেন নেদারল্যান্ডসের তারকা ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার আনন্দের মধ্যেই তিনি ও তাঁর পরিবার পেয়েছেন হৃদয়বিদারক এক সংবাদ—গর্ভাবস্থায় মারা গেছে তাঁদের অনাগত সন্তান।
বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। আগামী ৩০ জুন নকআউট পর্বে মরক্কোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতি চলাকালেই গাকপোর পরিবারে নেমে আসে এই শোক। ব্যক্তিগত জীবনের এই দুঃসংবাদ পুরো ডাচ ফুটবল অঙ্গনকে আবেগাপ্লুত করেছে।
গাকপোর স্ত্রী নোয়া ভ্যান ডার বিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর খবর জানান। তিনি লেখেন, ভাঙা হৃদয়ে তাঁরা জানাচ্ছেন যে, গর্ভাবস্থাতেই তাঁদের সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা গেছে। একই সঙ্গে পরিবারটির প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন জানানোর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বার্তার শেষাংশে তিনি লেখেন, তাঁদের সন্তান সব সময় তাঁদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে এবং চিরকাল তাঁদের ছেলে হয়েই থাকবে।
পোস্টে তিনি আরও জানান, সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল এলাইজা রাফায়েল গাকপো। সেই বার্তার সঙ্গে একটি সাদা-কালো আবেগময় ছবিও প্রকাশ করেন, যা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলার, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা গাকপো ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এর কিছু সময় পর আরেকটি পোস্টে নোয়া ভ্যান ডার বিজ একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তিনি জানান, চার্চে একটি মোমবাতি জ্বালানোর পর তাঁরা তাঁদের সন্তান স্যামুয়েলকে নিয়ে চার্চের আঙিনায় হাঁটছিলেন। সেখানে তাঁদের আরেকটি শিশুর সঙ্গে দেখা হয়, যার নামও ছিল এলাইজা। বিজের ভাষায়, ঘটনাটি তাঁদের কাছে বিশেষ এক ইঙ্গিতের মতো মনে হয়েছে—যেন তাঁদের হারিয়ে যাওয়া সন্তান কোনো না কোনোভাবে এখনো তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। এই অনুভূতি তাঁদের কঠিন সময় সামলে ওঠার শক্তি জুগিয়েছে।
স্ত্রীর সেই আবেগঘন বার্তাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শেয়ার করেন কোডি গাকপো। একই সঙ্গে ভক্ত, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানান। গাকপো লেখেন, এটি তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি সময়। এই মুহূর্তে তাঁদের কিছুটা ব্যক্তিগত পরিসর, সময় এবং নীরবতা প্রয়োজন। তিনি সবার সহানুভূতি ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের হয়ে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন গাকপো। দলের আক্রমণভাগে তাঁর উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যক্তিগত এই শোকের পর তিনি নকআউট পর্বে খেলবেন কি না, তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডাচ সংবাদমাধ্যম ডে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, গভীর ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও মরক্কোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে গাকপোর মাঠে নামার সম্ভাবনাই বেশি। তবে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নেদারল্যান্ডস দলের কোচিং স্টাফ। প্রধান কোচ রোনাল্ড কোমান এবং দলের মেডিকেল ও সাপোর্ট স্টাফ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
ফুটবলের মতো প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে খেলোয়াড়দের সাফল্য ও ব্যর্থতার গল্প যতটা আলোচিত হয়, ব্যক্তিগত জীবনের এমন বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলো প্রায়ই আড়ালেই থেকে যায়। গাকপোর পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতির খবর তাই শুধু নেদারল্যান্ডস নয়, বিশ্বজুড়েই ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ছুঁয়ে গেছে। মাঠের লড়াইয়ের বাইরে একজন মানুষ হিসেবে তাঁর ও তাঁর পরিবারের এই কঠিন সময়ে অসংখ্য মানুষ সহমর্মিতা ও সমর্থনের বার্তা জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মন্তব্য