খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৫:৬ পিএম

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বৃদ্ধ মাকে নির্যাতন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মায়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
গ্রেফতার হওয়া আসাদুজ্জামান শামীম (৩৭) উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামের বাসিন্দা। তার মা আনজুমান আরা (৬৭) গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আনজুমান আরার নামে কিছু কৃষিজমি ও অন্যান্য সম্পত্তি রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য শামীম দীর্ঘদিন ধরে মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। মা এতে রাজি না হওয়ায় একের পর এক নির্যাতনের শিকার হন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ জুন শামীম ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। কিছুদিন চিকিৎসার পর বাড়িতে ফিরলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং গত ১৪ জুন আবারও তার ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শামীম ধারালো চাকু দিয়ে আনজুমান আরার ডান পায়ের রগ কেটে দেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধামইরহাট থানা পুলিশের একটি দল বস্তাবর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামান শামীমকে গ্রেফতার করে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পিতা-মাতার প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পারিবারিক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে বিরোধ নতুন নয়। তবে সেই বিরোধের জেরে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ওপর সহিংসতা উদ্বেগজনক। এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবারে প্রবীণ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ—দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য