মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় একটি মসজিদে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের মত্তগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ওসমান গনি বাড়ির একটি মসজিদে ফজরের নামাজ চলাকালে মুসল্লিদের পকেট থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ ওঠে। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে এক যুবককে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও মুসল্লিরা আটক করেন। আটক করার পরপরই তাকে মারধর করা হয় বলে জানা যায়।
মারধরের সময় ওই যুবক গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেন। পরে তাকে মসজিদের সামনে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। ভোরের আলো ফুটতেই ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে শ্রীনগর থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেখানে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। মরদেহটি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন (প্রায় ২৭ বছর)। তিনি একই এলাকার শামসুল হকের ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, শাহাদাৎ এর আগেও চুরির অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় এসেছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু তালুকদার বলেন, ভোরে তারা প্রথমে মসজিদে মোবাইল চুরির কথা শুনতে পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন এক যুবককে আটক করে মারধর করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর জানা যায় তিনি আর বেঁচে নেই।
এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরির সন্দেহে গণপিটুনির কারণেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের বিরুদ্ধে পূর্বেও চুরির একাধিক অভিযোগ থাকার কথা জানা গেছে। তবে পুরো ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কীভাবে এটি সংঘটিত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য